শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭

বিদ্যুৎ

বাংলাদেশের উপর দিয়ে বিদ্যুৎ লাইন নিতে চায় ভারত

বাংলাদেশের উপর দিয়ে বিদ্যুৎ লাইন নিতে চায় ভারত

জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে ভারতের পূর্বোত্তর রাজ্যগুলোকে সহজেই যোগ করতে বাংলাদেশের উপর দিয়ে বিদ্যুতের পরিবাহি লাইন নিতে আগ্রহী ভারত। শনিবার ভারতের আসাম রাজ্যের রাজধানী গৌহাটিতে অনুষ্ঠিত নর্থ-ইস্ট রিজিওনাল পাওয়ার কমিটির ১৬তম বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলা থেকে প্রকাশিত দৈনিক দেশের কথা ও দৈনিক সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। গৌহাটিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে গ্রাহকরা যেন ২৪ ঘণ্টা নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পান এবং দাম কমিয়ে আনা যায় সে বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট গাইড লাইন তৈরির জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে বলা হয়েছে। এসব প্রস্তাব কেন্দ্রের কাছে পাঠানো হবে। ত্রিপুরার রাজ্য সরকারের বিদ্যুৎ মন্ত্রী মানিক দে ওই বৈঠকে যোগদান শেষে আগরতলায় ফিরে সাংবাদিকদের এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এতে বাংলাদেশও লাভবান হবে বলে মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আসাম ঘুরে পশ্চিমবঙ্গ পর্যন্ত পরিবাহি লাইন টানা আছে। কিন্তু পাহাড়ি এলাকা ও বন আইনের কারণে এ লাইন নিয়ে সমস্যা আছে। তবে বাংলাদেশের উপর দিয়ে আরেকটি পরিবাহি লাইন টানা হলে তা বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করার জন্য বাংলাদেশের উপর দিয়ে পরিবাহি লাইন টানার একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে শনিবারের বৈঠকে। এতে দেশটির পূর্বোত্তরের রাজ্যগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও পরিসেবা অনেক সহজ হবে।

রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিলের দাবিতে লংমার্চের ঘোষণা

রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিলের দাবিতে লংমার্চের ঘোষণা

সারাদেশ থেকে সুন্দরবনে লংমার্চ নিয়ে যাবে বলে ঘোষণা দিয়েছে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি। রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিলের দাবিতে আগামী ১০ থেকে ১৫ মার্চ এই লংমার্চ হবে বলে শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন কমিটির আহ্বায়ক আনু মুহাম্মদ। লিখিত বক্তব্যে আনু মুহাম্মদ বলেছেন, লংমার্চের আগে ১৫ ফেব্রুয়ারি সোমবার ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে এবং ২৭ ফেব্রুয়ারি শনিবার সারা দেশে প্রতিবাদ ও দাবি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ মার্চ বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশাজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা হবে। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সম্মেলন কক্ষে এই সাংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) বজলুর রশিদ ফিরোজ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির রুহিন হোসেন প্রিন্স ও গণসংহতির আহবায়ক জোনায়েদ সাকী উপস্থিত ছিলেন। তিনবছর আগে ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে একই দাবিতে সুন্দরবন অভিমুখে লংমার্চ করেছিল তেলগ্যাস কমিটি।

২৩ প্রকল্পের অগ্রগতি শূন্য খরচ হচ্ছে না ২১৯৩ কোটি টাকা!

২৩ প্রকল্পের অগ্রগতি শূন্য খরচ হচ্ছে না ২১৯৩ কোটি টাকা!

২০১৫-১৬ অর্থবছরের (জুন-জুলাই) বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে(এডিপি) অন্তর্ভুক্ত বিদ্যুৎ বিভাগের ৭০টি প্রকল্পের মধ্যে ২৩টির কোনো অগ্রগতি নেই। চলতি অর্থবছরের ছয়মাস অতিবাহিত হলেও এসব উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পযর্ন্ত সংশ্লিষ্টরা একটি টাকাও খরচ করতে পারেনি। এ কারণে প্রকল্পগুলোর পরিচালকদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ও বিদ্যুৎ বিভাগ। এডিপি’র মোট বরাদ্দ থেকে বিদ্যুৎ বিভাগের ২ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত যাচ্ছে। কারণ, মোট এডিপি বরাদ্দের অর্থ খরচ করার মতো সামর্থ্য নেই বিদ্যুৎ বিভাগের। বরাদ্দকৃত অর্থ খরচে অপারগতা প্রকাশ করে বিদ্যুৎ বিভাগ সংশোধিত এডিপি’তে (আরএডিপি) ২ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা কম প্রস্তাব করেছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে। এডিপি বরাদ্দের অর্থ খরচ না করতে পারা প্রসঙ্গে বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. আহমদ কায়কাউস বাংলানিউজকে বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে ভূমি অধিগ্রহণে নানা সমস্যা হয়েছে। প্রকল্পে ডোনারদের যাচাই কাজ দেরিতে হওয়ার কারণে এডিপি বাস্তবায়নে ধীরগতি হয়েছে। এডিপি’তে বিদ্যুৎ বিভাগের অনুকূলে বরাদ্দ ১৬ হাজার ১২১ কোটি ৭৯ লাখ টাকার মধ্যে ২ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা খরচ করতে পারছি না। আমাদের হাতে সময় আছে মাত্র ছয়মাস। এই সময়ে যে অর্থ খরচ করতে পারবো। তাই বরাদ্দ চেয়েছি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে। তিনি আরও বলেন, এডিপি’তে পিএ(প্রকল্প সাহায্য) টাকা কম খরচ হয়েছে। কারণ, বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে বিভিন্ন প্রসেসিংয়ের দরকার পড়ে। তবে জিওবি(সরকারি নিজস্ব অর্থায়ন) অর্থ খরচের পরিমাণ ভালো। এবার এডিপি বাস্তবায়ন একটু খারাপ হলেও পরবর্তী সময়ে আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবো। বিদ্যুৎ বিভাগের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতিতে দেখা গেছে, এডিপিভুক্ত মোট ৭০টি প্রকল্পের মধ্যে ২৩টি প্রকল্পের অগ্রগতি শূন্য। এর মধ্যে তিনটি প্রকল্পের অনুকূলে এখনো কোনো অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়নি, ১৯টি প্রকল্পের অগ্রগতি ২৫ শতাংশের নিচে এবং ২৮টি প্রকল্পের অগ্রগতি ২৫ শতাংশের ওপরে। অথচ পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল আশা প্রকাশ করে বলেছিলেন, চলতি অর্থবছরে শতভাগ এডিপি বাস্তবায়ন হবে। মূল এডিপি’র ৭১ শতাংশ ১০টি মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ রয়েছে। এসব মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে এডিপি বাস্তবায়নের হার। ১০টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে অন্যতম বিদ্যুৎ। এ বিভাগ থেকে জানা গেছে, ২০১৫-১৬ অর্থবছরের এডিপি’তে বিদ্যুৎ বিভাগের বিভিন্ন সংস্থার আওতাভুক্ত প্রকল্পগুলোর অনুকূলে মোট ১৬ হাজার ১২১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৭ হাজার ৩০০ কোটি টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য ৯ হাজার ১৮৫ কোটি ১৭ লাখ টাকা। প্রকল্পগুলোর বিপরীতে চলতি অর্থবছরে(২০১৫-১৬) ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পযর্ন্ত ছয় মাসে মোট ব্যয় হয়েছে মাত্র ৪ হাজার ৩৯৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। যা মোট বরাদ্দের ২৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ। ব্যয়ের মধ্যে প্রকল্প সাহায্য ২ হাজার ৪০২ কোটি টাকা (২৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ) এবং সরকারি অর্থ ১ হাজার ৯৯৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা বা ২৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ। প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ৩৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে এডিপি বাস্তবায়নের আর্থিক ও ভৌত অগ্রগতি ছিল যথাক্রমে ২৮ দশমিক ২৩ শতাংশ ও ৪০ দশমিক ২১ শতাংশ। ১০টি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে অন্যতম বিদ্যুৎ বিভাগ। অথচ এই বিভাগ এডিপি’তে বরাদ্দের টাকা খরচ করতে না পারায় সংশোধিত এডিপি’র জন্য মোট ১৪ হাজার ২৯২ কোটি ২৩ লাখ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। যা মূল এডিপি’র তুলনায় প্রায় ২ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা অথবা ১৩ দশমিক ৩০ শতাংশ কম। এর ফলে এই অর্থ বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে ফিরিয়ে নিয়ে সরকারি কোষাগারে জমা হবে। বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে জানা গেছে, বিদ্যুৎ সচিব মনোয়ার ইসলাম তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে মূল এডিপি বরাদ্দে সম্পূর্ণ অর্থ ব্যয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংস্থা প্রধান ও প্রকল্প পরিচালকদের নির্দেশনা দিয়েছেন। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের মূল এডিপি বরাদ্দের সমস্ত অর্থ ব্যয় করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়নের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো নিরসনে উদ্যোগ নিতে বলেছেন। অন্যদিকে যেসব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এডিপি বাস্তবায়নে পিছিয়ে রয়েছে তাদের বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। পরিকল্পনা বিভাগের সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আজম বাংলানিউজকে বলেন, ‘যেসব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ অধিক বরাদ্দ নিয়েছে, কিন্তু বাস্তবায়ন করেনি তাদের বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া হবে। যারা এডিপি বাস্তবায়নে ভালো পারফর্ম করবে তাদেরই বেশি বেশি বরাদ্দ দেওয়ার কথা চিন্তা করেছি। আপনারা (মন্ত্রণালয় ও বিভাগ) অধিক বরাদ্দ নেবেন, অথচ খরচ করতে পারবেন না, তা হতে পারে না। এটা চলতে থাকলে যারা এডিপি বাস্তবায়নে ভালো পারফর্ম করবে তাদের বঞ্চিত করা হবে’। এডিপি বাস্তবায়নে ধীরগতি প্রসঙ্গে সচিব বলেন, মন্ত্রণালয় ও বিভাগের এমন অনেক প্রকল্প আছে যেগুলো গুরুত্বহীন। অথচ বছরের পর বছর মন্ত্রণালয়গুলো এসব প্রকল্প টেনে নিয়ে বেড়াচ্ছে। এসব প্রকল্প একেবারে বাদ দিয়ে নতুন করে আমরা চিন্তা করবো। গুরুত্বহীন প্রকল্পে বরাদ্দের কোনো মানে নেই। শুধু খামাখা বয়ে বেড়ানোই হয়’।

অভিনব কৌশলে বিদ্যুৎ চুরি

অভিনব কৌশলে বিদ্যুৎ চুরি

মিটারে এসিড দিয়ে অভিনব পদ্ধতির বিদ্যুৎ চুরির ঘটনা উদঘাটন করেছে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) স্পেশাল টাস্কফোর্স। বিদ্যুৎ চুরির এ ঘটনায় সাড়ে ১৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে কামরাঙ্গীরচরের একটি কারখানায়। স্পেশাল টাস্কফোর্সের প্রধান মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী বাংলানিউজকে জানিয়েছেন, মিটার ছিদ্র করে তাতে এসিড স্প্রে করে করে মিটারের সার্কিট বিনষ্ট করা হয়েছে। এতে যাতে মিটারটির ডিসপ্লে বন্ধ হয়ে যায়। এ ঘটনায় ৬৪ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ চুরির ঘটনা ধরা পড়ে। একই দিনে লালবাগ এলাকায় একটি ১০তলা ভবনে বাইপাস লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ চুরির ঘটনা ধরা পড়ে। ভবনটির একটি বড় অংশের মালিক বাংলাদেশ ডাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি, বাংলাদেশ মনোহরী সমিতির সভাপতি এবং এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক শফি মাহমুদ। চুরির অপরাধে ১২ লাখ ২৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া রিলে বসিয়ে মিটার বাইপাস করে বিদ্যুৎ চুরির অপরাধে লালবাগের নাজিমউদ্দিন প্লাস্টিককে ১৫ লাখ টাকা এবং পোস্তগোলায় এসএন আইস ফ্যাক্টরিকে ৬ লাখ ৫৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

ত্রিপুরা থেকে আনা বিদ্যুতের দাম পড়বে ৬.৪৩ টাকা ইউনিট

ত্রিপুরা থেকে আনা বিদ্যুতের দাম পড়বে ৬.৪৩ টাকা ইউনিট

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে সাড়ে পাঁচ রুপি (৬.৪৩ টাকা) দরে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ কিনবে বাংলাদেশ। দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে এই দর নির্ধারণ করা হয়েছে। শনিবার (০৯ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের এ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের পক্ষে প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। প্রতিনিধি দলে ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি সচিব মনোয়ারুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব ড. আহমেদ কায়কাউসসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। অন্যদিকে, ভারতের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ত্রিপুরা রাজ্য সরকারের বিদ্যুৎ মন্ত্রী মানিক দে। এছাড়া প্রতিনিধি দলে ছিলেন- ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের পরিচালক ঘনস্যাম প্রসাদ, ত্রিপুরা রাজ্যসভার বিদ্যুৎ দফতরের প্রধান সচিব এসকে রাকেশ, এজিএম মহানন্দ দেববর্মা। ত্রিপুরার পালাটান গ্যাস ভিত্তিক বিদ্যু ১শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আনা হবে। বিদ্যুৎ আনতে বাংলাদেশ অংশে ২৭.৮ কিমি ও ভারতে অংশে ২৪ কিমি সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করা হচ্ছে। খুব শিগগিরই লাইন নির্মাণ শেষ হবে, এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে বিদ্যুৎ আমদানি উদ্বোধন করা হবে। বাংলাদেশের কুমিল্লার কসবা লাইন দিয়ে এই বিদ্যুৎ আনা হবে। এবারের চুক্তিতে ভারত যখন বিদ্যুৎ দেবে, বাংলাদেশ তখনই টাকা পরিশোধ করবে। এর আগে, ভেড়ামারা দিয়ে ভারত থেকে ৫শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেনার সময়, বিদ্যুৎ না কিনলে ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হতো। এবার সেই ক্যাপাসিটি চার্জ থাকছে না। বৈঠক শেষে ত্রিপুরা রাজ্য সরকারের বিদ্যুৎ মন্ত্রী মানিক দে বলেন, আর্থিক মূল্য দিয়ে বিষয়টি বিচার করা যাবে না, এটি সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য করা হয়েছে। বিদ্যুতের ক্ষেতে আরও অনেক ব্যয় জড়িত থাকে কিন্তু সেসব ধরা হয়নি। বাংলাদেশ ভারতের ভাতৃপ্রতিম দেশ বলে এই দরে বিদ্যুৎ দেওয়া হচ্ছে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এর অনুমোদন দিয়েছে। এখন কিছু আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া বাকি রয়েছে। আনুষ্ঠানিক চুক্তি শেষে দ্রুত বিদ্যুৎ চলে আসবে বলে জানান তিনি। এর আগে, ভারত থেকে ভেড়ামারা দিয়ে ৫শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আনে বাংলাদেশ। এবারের ১শ মেগাওয়াট আনার মধ্য দিয়ে ৬শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আনতে সক্ষম হবে বাংলাদেশ। আগের ৫শ মেগাওয়াটের মধ্যে ২শ ৫০ মেগওয়াট আনা হয় ২.৫০ টাকা দরে। অন্য ২শ ৫০ মেগাওয়াট ৪.৫০ টাকা দরে আনা হয়।

ফেনীতে সৌর ও বায়ুশক্তিতে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র

ফেনীতে সৌর ও বায়ুশক্তিতে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র

কার্বন নির্গমণ হ্রাসকরণ ও বিদ্যুতের বিকল্প উৎসের ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ফেনীর সোনাগাজীতে ১০০ মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ২০২০ সালের মধ্যে ১০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতেই এ মহা উদ্যোগ। সৌর ও বায়ুশক্তি ব্যবহার করে এ ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। ‘১০০ মেগাওয়াট পিক সোলার ফটোভোল্টেইক গ্রিড সংযুক্ত বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ’ শীর্ষক এ প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৪৬০ কোটি ২৬ লাখ ৫১ হাজার টাকা। মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে ৩৮২ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড(বিউবো)৫৮ কোটি ১২ লাখ টাকার সংস্থান করবে। প্রকল্প সাহায্য হিসেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড ১ হাজার ২০ কোটি টাকা ঋণ দেবে। নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতি মেগাওয়াটে সাড়ে তিন একর জমি দরকার হয়। সে হিসেবে প্রায় ৩৫০ একর জমিতে গড়ে উঠবে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি। বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্ম সচিব (নবায়নযোগ্য জ্বালানি) মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বাংলানিউজকে বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ফেনীতে ১০০ মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। এখানে আমরা মূলত বায়ু ও সৌরশক্তিকে কাজে লাগাবো। নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে ব্যয়ের অন্যতম মহাপরিকল্পনা এটি। ২০১৬ সালের জুলাই থেকে ২০১৮ সালের জুন মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বিউবো। প্রকল্পের আওতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন সামর্থ্যের স্বল্পতা হ্রাসকরণ, ছোট গ্রিড সংযুক্ত সোলার পিভি সিস্টেম নির্মাণের পূর্ণ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো হবে। এর পাশাপাশি প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে মানবসম্পদ এবং অন্যান্য স্থানীয় প্রযুক্তির উন্নয়ন করে নবায়নযোগ্য জ্বালানির টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে। বিদ্যুৎ বিভাগ জানায়, দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার মাত্র ২ শতাংশ। সরকার ২০২০ সালের মধ্যে সারাদেশে বিদ্যুতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ৫ থেকে ১০ শতাংশ। সে লক্ষ্যে ব্যপক পরিসরে বায়ু সম্পদকে কাজে লাগানো হবে। সরকার ২০১৭ সাল নাগাদ ১৯ হাজার ৭০১ মেগাওয়াট এবং ২০২১ সাল নাগাদ ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। লক্ষ্যমাত্রা পূরণে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে মনে সরকার। বিদ্যুৎ বিভাগ জানায়, নবায়নযোগ্য শক্তির সকল উৎসের মধ্যে সৌরশক্তি বাংলাদেশের সেরা কাযর্ক্রম। গ্রিড সংযুক্ত সৌর ফটোভোলটেইক বিদ্যুৎকেন্দ্র সারা দেশে নিরাপদ নির্ভরযোগ্য এবং সাশ্রয়ী একটি মাধ্যম। প্রকল্পের আওতায় নানা যন্ত্রপাতি কেনা হবে। যেমন- সোলার পিভি মডিউলস, এসি ইনভারটাস, মাউন্টিং স্ট্র্যাকচার, স্ক্যাডা সিস্টেম, ক্যাবলিং ইত্যাদি। এছাড়া সাব স্টেশন, ১০ কিলোমিটার ১৩২ কেভি ইভাক্যুয়েশন লাইন, আবশ্যিক খুচরা যন্ত্রপাতি কেনা হবে। এর পাশাপাশি, পর্তুগিজসহ দেশি-বিদেশি পরামর্শকও নিয়োগ দেওয়া হবে। প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের যৌক্তিকতা তুলে ধরে বিদ্যুৎ বিভাগ জানায়, জ্বালানি হিসেবে বিশ্বব্যাপী তেল, গ্যাস ও কয়লার প্রাপ্যতা কমে যাচ্ছে। যে কারণে বিকল্প হিসেবে সৌরশক্তি, বায়ু ও সমুদ্রের স্রোত ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সারা বিশ্ব কাজ করছে। সৌরশক্তিকে ব্যাপকভাবে বিদ্যুত উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। সৌরশক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রযুক্তি দিন দিন উন্নতিও করছে। মনো ক্রিস্টালাইন, পলি ক্রিস্টালাইন, অ্যামরফোয়ায়াস সিস্টেমের ওপর সৌর বিকিরণ আপতিত হওয়ার কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়। এ প্রযুক্তি ব্যাপকভাবে উন্নত দেশগুলোর পাশাপাশি উন্নয়নশীল দেশগুলোতেও ব্যবহার করা হচ্ছে। বর্তমানে সারা বিশ্বে প্রায় চার লাখ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সৌরশক্তি ব্যবহার করে উৎপাদিত হচ্ছে। যেটা আমাদের দেশে অনুসরণ করা সম্ভব। প্রচলিত জীবাশ্ম জ্বালানি তেল, গ্যাস, কয়লা, ডিজেল ইত্যাদি ক্ষয়িষ্ণু, যেগুলো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে একদিন নিঃশেষ হয়ে যাবে। অন্যদিকে উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সৌরশক্তি ও বায়ুশক্তির ব্যবহার পরিবেশের ওপর কোনো বিরুপ প্রভাব ফেলে না।

পেকুয়ায় ১২শ’ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

পেকুয়ায় ১২শ’ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়িতে কয়লাভিত্তিক দু’টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল ফায়ার্ড পাওয়ার প্রজেক্ট দু’টি থেকে ৬শ’ মেগাওয়াট করে মোট ১২শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। এবার কক্সবাজারেরই পেকুয়া উপজেলায় আরও দু’টি নতুন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সরকার। ৬শ’ মেগাওয়াট করে এ দুই কেন্দ্র থেকেও মোট ১২শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে। বিদ্যুৎ বিভাগের ইলেকট্রিসিটি জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড অব বাংলাদেশ (ইজিসিবি) এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছে। ১২শ’ মেয়াওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসন, পরিবেশগত প্রভাব নিরুপণ ও অন্যান্য বিষয়গুলো নিয়ে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু করতে যাচ্ছে ইজিসিবি। ইজিসিবি সূত্র জানায়, পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগে ‘ল্যান্ড ইক্যুইজেশন, রিসেটেলমেন্ট অ্যান্ড ফিজিবিলিটি স্টাডি ফর ইমপ্লিমেন্টশন অব ২.৬০০ মেগাওয়াট কোল বেজড পাওয়ার প্ল্যান্ট’ প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ৫১৬ কোটি টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৭ কোটি টাকা সংস্থান করবে পিজিসিবি। প্রাথমিকভাবে এ প্রকল্পটি ২০১৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হলে মূল প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। বাংলাদেশের ইতিহাসে বৃহত্তম ৩৫ হাজার ৯৮৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকা ব্যয়ে কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়িতে কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ চলমান আছে। এ প্রকল্প থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে পেকুয়ায় আরও একটি ইতিহাস রচনা হতে যাচ্ছে। নতুন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বিষয়টি নিশ্চিত করে বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. আহমদ কায়কাউস বাংলানিউজকে বলেন, ‘মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে ১২-১৩ কিলোমিটার দূরে পেকুয়ায় ৬০০ মেগাওয়াট করে দু’টি ইউনিটে ১২শ’ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ করা হবে। এ উদ্দেশ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে ভূমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসন, পরিবেশগত প্রভাব নিরুপণ এবং ফিজিবিলিটি স্টাডি সম্পন্ন করার জন্য প্রকল্প নিতে যাচ্ছি’। মূল প্রকল্পের ব্যয় কত হতে পারে?- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ফিজিবিলিটি স্টাডি করার পরই সবকিছু বলা যাবে। তবে পেকুয়া কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হলে দেশে বিদ্যুতের কোনো অভাব থাকবে না’। বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র জানায়, বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইজিসিবি লিমিটেডের মাধ্যমে কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলায় ১২শ’ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক আল্ট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল টেকনোলজির বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সে লক্ষ্যে ১ হাজার ৫৬০ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হবে। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ১৩ হাজার ৭শ’ মেগাওয়াটে এসে দাঁড়িয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যে ২৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ খাতের অর্থায়নে সিঙ্গাপুরে বন্ড ছাড়বে বাংলাদেশ

বিদ্যুৎ খাতের অর্থায়নে সিঙ্গাপুরে বন্ড ছাড়বে বাংলাদেশ

বিদ্যুৎ খাতের বড় প্রকল্পগুলোতে অর্থায়নের জন্য সিঙ্গাপুরের শেয়ারবাজারে বন্ড ছাড়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এর মাধ্যমে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার সংগ্রহ করার প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশের বিদ্যুৎ খাতকে স্বনির্ভর ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু জানিয়েছেন। রবিবার দুপুরে রাজধানীতে বিদ্যুৎ ভবনে ‘সিঙ্গাপুরের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির পদ্ধতি’ শীর্ষক সেমিনারের পর নসরুল হামিদ বিপু সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। বাংলাদেশ এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার রিসার্চ কাউন্সিল (বিইপিআরসি) এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশাল বিনিয়োগের জন্য জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ প্রয়োজন। ২০৪০ সালের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে দরকার হবে প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার। এ পরিমাণ অর্থ ব্যাংক বা ইসিএ (এক্সপোর্ট ক্রেডিট এজেন্সি) দিয়ে ফাইনান্সিং করা লাভজনক নয়। বন্ড বা শেয়ার মার্কেট হতে এ অর্থ সংগ্রহ করা গেলে আমাদের অর্থনীতির জন্য মঙ্গলজনক। তিনি বলেন, বিনিয়োগের সম্ভাব্য সকল খাতকে আমরা উৎসাহিত করব। বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সংস্থাকে বন্ড মার্কেটে আনতে পারলে সংস্থাগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ার সাথে সাথে দক্ষতাও বাড়বে। এর মাধ্যমে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ব্র্যান্ডমূল্য বাড়ার পাশাপাশি বাণিজ্যিক সুবিধাও তৈরি হবে। এ ছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যুতখাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং এ জন্য বিনিয়োগের তথ্যও উন্মুক্ত হবে। তথ্য আরো উন্মুক্ত হলে নতুন বিনিয়োগও আসবে। বিইপিআরসির চেয়ারম্যান ও বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. আহমাদ কায়কাউস বলেন, প্রাথমিক হিসাবমতে ২০৪০ সাল নাগাদ বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি প্রয়োজন হবে। বর্তমান সরকারি কাঠামোতে এ অর্থ সংগ্রহ করা সম্ভব নয়। তাই প্রথাগত হিসাবের-ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে নিজেদের সম্পদ ও দক্ষতাকে কাজে লাগাতে হবে। তিনি বলেন, বড় প্রকল্পগুলোতে অর্থায়নের জন্য ব্যাংক ঋণ বা উন্নয়ন সহযোগিদের ঋণসহায়তা দীর্ঘমেয়াদে ভালো সিদ্ধান্ত নয়। বিকল্প অর্থায়নে যেতে হবে। আমরা এক্সপোর্ট ক্রেডিট এজেন্সি সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছি। এখন বন্ড থেকে অর্থ সংগ্রহের পালা। সার্বিক বিবেচনায় সিঙ্গাপুরের বাজারে বন্ড ছাড়াটাই আমাদের জন্য এখন সুবিধাজনক। সিঙ্গাপুরের ড্রিউ অ্যান্ড নেপিয়ারের পরিচালক (করপোরেট অ্যান্ড ফিন্যান্স) ফারহানা সিদ্দিকী মূল প্রবন্ধে সিঙ্গাপুরের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তি পদ্ধতি আলোচনার পাশাপাশি বাংলাদেশের তালিকাভুক্তির সুবিধা ও যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ একটি ভালো ক্ষেত্র। ভূতাত্ত্বিক ও আঞ্চলিক নৈকট্য বিবেচনায় বাংলাদেশের জন্য সিঙ্গাপুরই সবচেয়ে ভালো পছন্দ হতে পারে। লন্ডন বা নিউইয়র্কে তালিকাভুক্তিতে সময় নির্ধারণ ও বাণিজ্যিক সময় নিয়ে বিপাকে পড়তে হবে। সিঙ্গাপুরের ক্ষেত্রে তেমন সমস্যা নেই। ফারহানা সিদ্দিকী বলেন, বৈদিশিক মুদ্রা বিনিময়ের (এফএক্স) বড় কেন্দ্রগুলোর মধ্যে সিঙ্গাপুর একটি। তাই তালিকাভুক্ত কোম্পানি সহজেই সুবিধামত মুদ্রায় তার অর্থ রূপান্তর করতে পারবে। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিদ্যুৎ সচিব মনোয়ার ইসলাম, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক স্বপন কুমার বালা।

রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার তাগিদ

রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার তাগিদ

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জাতীয় কমিটির চতুর্থ বৈঠকে এই নির্দেশ দেন তিনি। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, বৈঠকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুেকন্দ্রের কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয় এবং প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন নির্দেশনা দেন। অর্পিত দায়িত্ব যথাযথ ও দ্রুততার সঙ্গে শেষ করলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ সিরাজুল হক খান বৈঠকে পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে প্রকল্পের অগ্রগতির তথ্য উপস্থাপন করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বুধবার চতুর্থ বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, কৃষি মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, পানি সম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, বন ও পরিবেশ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, পরিকল্পনা মন্ত্রী আহম মোস্তফা কামাল, নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান, বিনিয়োগ বোর্ডের চেয়ারম্যান এসএ সামাদ সংশ্লিষ্ট সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।

এ বছরই বিদ্যুৎ খাত দুর্নীতিমুক্ত হবে : বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

এ বছরই বিদ্যুৎ খাত দুর্নীতিমুক্ত হবে : বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

এ বছরই হবে বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ। ১০ শতাংশ দুর্নীতি কমালে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের অনেক সাশ্রয় হবে। এছাড়া বাপবিবোর্ডের সিস্টেম লস ১২ শতাংশ থেকে ২ শতাংশ হ্রাস পেলে ৬শ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে এ প্রতিষ্ঠানটির। সিস্টেম লসের ক্ষেত্রসমূহ চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সরকারের অনেক পরিকল্পনা রয়েছে কিন্তু মাঠ পর্যায়ে সঠিকভাবে তা বাস্তবায়নের জন্য সবাইকে আরও আন্তরিক হতে হবে। গতকাল বাপবিবোর্ডের আওতাধীন পবিসসমূহের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব মন্তব্য করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এমপি। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মঈন উদ্দিন, পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন ও বাপবিবোর্ডের সদস্যরা বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে বাপবিবোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণসহ দেশের ৭৭টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার ও পবিস সমিতি বোর্ডের সভাপতিগণ উপস্থিত ছিলেন। বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রি-পেইড মিটার দ্রুত স্থাপনের মাধ্যমে দুর্নীতি কমিয়ে আনলে লোড ম্যানেজমেন্টসহ বিদ্যুৎ বিল আদায় সহজতর হবে। মিটার নেই বলে অনেকে দুর্নীতির আশ্রয় নিচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, পর্যাপ্ত মিটার ক্রয়ের জন্য অর্থের কোন সঙ্কট নেই। লোডশেডিং সহনীয় পর্যায়ে রাখতে হবে। এছাড়া লোড ম্যানেজমেন্টের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক থাকার জন্য তিনি আহ্বান জানান। প্রতিমন্ত্রী বলেন, তথ্য প্রযুক্তিকে সঠিকভাবে ব্যবহার করে দুর্নীতি হ্রাস করা সম্ভব। দুর্নীতি কমলে বাংলাদেশ দ্রুত উন্নতির দিকে এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড/পবিসসমূহ আন্তরিক ও সক্রিয়ভাবে অনেক কাজ করছে বিধায় এখন বিদ্যুতের জন্য তদ্বিরের প্রয়োজন পড়ে না। কাজের মান বাড়াতে সংশ্লিষ্ট সকলকে আরও যত্নবান হওয়ার জন্য তিনি আহ্বান জানান। প্রধান অতিথি বলেন, এখন বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ২০৩০ সালে বাংলাদেশ উন্নত বিশ্বের কাতারে আসবে। সুতরাং লাইন নির্মাণের ক্ষেত্রেও উন্নত প্রযুক্তি কাজে লাগাতে হবে। বাড়ির উপর দিয়ে লাইন নির্মাণ না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের তিনি নির্দেশ দেন। বিদ্যুৎ খাতে উন্নত বিশ্বের প্রযুক্তি কাজে লাগাতে হবে। এতে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি ব্যাপকভাবে হ্রাস পাবে। ঠিকাদারদের দুর্নীতি বন্ধে বাপবিবোর্ড/পবিসসমূহকে আরও সতর্ক হওয়ার জন্য তিনি আহ্বান জানান। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে তথ্য প্রযুক্তি এমন পর্যায়ে গেছে যে, অন্য প্রান্ত থেকে কথা বললে মোবাইলে নিজের ছবি দেখা যায়। দেশের বাইরে ভাইবারে বিনা খরচে কথা বলা যায়। কার্যকর পরিকল্পনা অনুযায়ী সাব স্টেশন কিংবা লাইন নির্মাণ করলে ভবিষ্যতে লাইন অপসারণের প্রয়োজন হবে না। এতে সময়, অর্থ ও বিদ্যুতের অপচয় রোধ করা সম্ভব হবে। জীবনযাত্রার মান বেড়েছে বিধায় ট্যারিফ বাড়ানো হবে যৌক্তিক পর্যায়ে। তবে এ ক্ষেত্রে মানুষের যেন কষ্ট না হয় বিষয়টিও সরকার বিবেচনায় রাখছে। শেখ হাসিনার সরকার দেশের মানুষকে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দিচ্ছে এ বিষয়টি বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্টদের মাইকিং করার তিনি আহ্বান জানান। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বাপবিবো প্রতিমাসে লাখ লাখ গ্রাহককে বিদ্যুৎ দিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। এছাড়া তিনি বাপবিবো/পবিসসমূহের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণকে সরকারের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার সফল অগ্র সৈনিক হিসাবে আখ্যায়িত করে তাদের কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি সকল সংসদ সদস্য/মন্ত্রী পরিষদের সদস্যগণকে পল্লী বিদ্যুতায়ন কার্যক্রমের ধারাবাহিক ও ঐতিহাসিক সফলতা, বর্তমান অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে সম্যক অবহিত করবেন মর্মে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সরকার গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি দিচ্ছে। তারপরও দেশের মানুষের যেন কষ্ট না পায়, সে দিকে বর্তমান সরকার বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখছেন। সর্বোপরি তিনি বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের অর্জিত সাফল্য অব্যাহত রাখার জন্য সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

বিদ্যুৎ খাতে অর্থ জোগান দেবে পুঁজিবাজার

বিদ্যুৎ খাতে অর্থ জোগান দেবে পুঁজিবাজার

বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে উন্নয়ন সহযোগীদের ঋণের ওপর নির্ভরতা কমাতে চাইছে সরকার। নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নে দেশি ও বিদেশি স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে শেয়ার ও বন্ড বিক্রি করে অর্থের চাহিদা মেটানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ খাতের বড় প্রকল্পের অর্থায়নে দেশি-বিদেশি এক বা একাধিক স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে অর্থ জোগাড়ের চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে। বর্তমানে সিঙ্গাপুরের স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়। বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল শীর্ষ এক কর্মকর্তা সমকালকে জানান, পরীক্ষামূলকভাবে এরই মধ্যে সিঙ্গাপুরের স্টক এক্সচেঞ্জের (সিঙ্গাপুর এক্সচেঞ্জ) মাধ্যমে বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে ৫০০ মিলিয়ন থেকে এক বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য শিগগিরই পরামর্শক নিয়োগ দেওয়া হবে। সিঙ্গাপুরের স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে বন্ড ইস্যুর অভিজ্ঞতা ভালো হলে পর্যায়ক্রমে আরও বড় অঙ্কের অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বাংলাদেশ পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি রিসার্চ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. আহমেদ কায় কাউস সমকালকে বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এবং অপেক্ষাকৃত কম ব্যয়ে বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্যই বিকল্প অর্থায়নের উৎস খোঁজা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে দেশি-বিদেশি স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে শেয়ার বিক্রি ও বন্ড ইস্যুকে প্রধান উৎস ভাবা হচ্ছে। কীভাবে অর্থ সংগ্রহ করা যায়, তার উপায় খুঁজে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রথাগতভাবে বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারি অর্থায়নের বাইরে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার ঋণের ওপর নির্ভর করা হয়। কম সুদে ঋণ পাওয়াটাই উন্নয়ন সহযোগীদের ঋণ নির্ভরতার প্রধান কারণ। তবে দাতা সংস্থাগুলো থেকে ঋণ পেতে নানা শর্ত পূরণ করে ঋণের অর্থ ছাড় পেতে বিলম্ব হওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ ও ব্যয় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পায়। ফলে শেষ পর্যন্ত ঋণের সুদ প্রকৃত অর্থে কম থাকে না।