শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭

শিল্প-কারখানা

‘ইপিজেডে আলাদা শ্রম আইন নয়’- ইপিজেডে প্রস্তাবিত আইনের অসঙ্গতি তুলে ধরে মন্ত্রিসভা কমিটিকে চিঠি দিয়েছে বিল্স

 ‘ইপিজেডে আলাদা শ্রম আইন নয়’- ইপিজেডে প্রস্তাবিত আইনের অসঙ্গতি তুলে ধরে মন্ত্রিসভা কমিটিকে চিঠি দিয়েছে বিল্স

রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড) বাদে দেশের বাকী এলাকার শ্রমিকদের জন্য ২০০৬ সালের (২০১৩ সালে সংশোধিত) শ্রম আইন রয়েছে। কিন্তু ইপিজেড এলাকার শ্রমিকদের জন্য নতুন একটি আইন করতে যাচ্ছে সরকার। আইনটি এখন মন্ত্রিসভা কমিটিতে রয়েছে। ইপিজেডের জন্য প্রস্তাবিত আইনের সঙ্গে দেশের বিদ্যমান শ্রম আইনের বেশকিছু অসঙ্গতি রয়েছে বলে মনে করছেন শ্রমিক নেতারা। তারা মনে করছেন, প্রস্তাবিত আইনে শ্রমিকদের অধিকার খর্ব করা হয়েছে। শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়নের মাধ্যমে সংগঠনের হওয়ার সুযোগ খর্ব করা হয়েছে। চাকরি থেকে পদত্যাগ, বরখাস্ত করার ক্ষেত্রে শ্রমিকদের সার্ভিস বেনিফিট পাওয়ার কোন সুযোগও ইপিজেড শ্রম আইনে নেই। বেশকিছু ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত আইনে আইএলও’র (আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা) নীতিমালাও মানা হয় নি। এ ধরনের বেশকিছু অসঙ্গতি তুলে ধরে সমপ্রতি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিল্স) মন্ত্রিসভা কমিটিতে একটি চিঠি পাঠিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রিসভা কমিটি ইস্যুটি পর্যালোচনার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।

তেজগাঁওয়ে নতুন শিল্প কারখানা নয় : প্রধানমন্ত্রী

তেজগাঁওয়ে নতুন শিল্প কারখানা নয় : প্রধানমন্ত্রী

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে আর নতুন করে কোনো শিল্প কারখানা স্থাপন না করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তেজগাঁওয়ে আর নতুন করে কোনো শিল্প কারখানা করা যাবে না। তবে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য ভবন তৈরি করা যাবে। একই সঙ্গে মগবাজার মৌচাক ফ্লাইওভার প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে। সব কাজ জুন ২০১৭ সালের মধ্যে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি কক্ষে একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ নির্দেশনা দেন। সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল তার নিজ কক্ষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। মন্ত্রী জানান, একনেক সভায় তেজগাঁও এলাকায় শিল্প কারখানা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এলইডি লাইট (সিকেডি) অ্যাসেমব্লিং প্ল্যান্ট প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হলো। তবে তেজগাঁও এলাকায় আর কোনো শিল্প কারখানা তৈরি করা যাবে না। আমরা নতুন নতুন ইকনোমিক জোন করে দিচ্ছি। এসব স্থানে শিল্প কারখানা নির্মাণ করতে হবে। মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার নির্মাণ প্রকল্প প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়ে বলেন, প্রকল্পের সময় ও ব্যয় আর বাড়ানো হবে না। এই সময়ের মধ্যে কোয়ালিটি নিশ্চিত করে প্রকল্পটি জনসাধারণের জন্য জুন ২০১৭ সালের মধেই উন্মুক্ত করে দিতে হবে। একনেক সভায় অনুমোদিত ‘বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্প’ সর্ম্পকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) দুটি প্রতিষ্ঠান আলাদাভাবে বিদ্যুৎ কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ নদীবক্ষের বালিতে মূল্যবান খনিজের উপস্থিতি নির্ণয়ে খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় ও বিজ্ঞান প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়কে যৌথভাবে কাজ করারও নির্দেশ দেন তিনি। এছাড়া ‘কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটাকে অত্যাধুনিক বিমানবন্দরে রুপ দিতে হবে। সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ করতে হবে। এ ছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে চার হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদের যথাযথভাবে পুনর্বাসন করারও নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

গাজীপুরে পোশাক কারখানায় আগুন

গাজীপুরে পোশাক কারখানায় আগুন

গাজীপুর মহানগরের বোর্ডবাজার সাইনবোর্ড এলাকায় মেট্রিক্স সোয়েটার কারখানার ৮তলা ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট কাজ করছে। গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক আক্তারুজ্জামান লিটন জানান, আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মেট্রিক্স সোয়েটার কারখানার ৮তলা ভবনের আট তলায় কারখানার সুতার গোডাউনের একটি রুমে প্রথম আগুন লাগে। কারখানায় সিনথেটিক মালামাল থাকায় আগুন দ্রুত পুরো ফ্লোরে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে জয়দেবপুর ও টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট কর্মীরা আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। আগুনের ভয়াবহতা বৃদ্ধি পেলে ঢাকা, সাভারসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আরো ৬টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজে যোগ দেয়। সকাল সাড়ে নটার দিকে আগুন ৭ম তলায়ও ছড়িয়ে পড়ে। জানা গেছে এ কারখানায় প্রায় ৭ হাজার শ্রমিক কাজ করে। সকালে যখন শ্রমিকরা কারখানায় কাজ যোগদানের জন্য আসছিলেন তখন আগুন লাগায় সেখানে কোন শ্রমিক ছিলেন না বলে কর্তৃপক্ষ জানায়। তবে আগুন নেভাতে গিয়ে ৫ শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়। আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমান জানা যায়নি।

বন্ধকৃত আদমজী জুটমিলের অসুস্থ ৯ শ্রমিক অনুদান পেলেন ৯ টি চেকে ৩ লাখ টাকা

বন্ধকৃত আদমজী জুটমিলের অসুস্থ  ৯ শ্রমিক  অনুদান পেলেন ৯ টি চেকে ৩ লাখ টাকা

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন শ্রমিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বন্ধকৃত আদমজী জুট মিলের অসুস্থ ৯ শ্রমিককে চিকিৎসার জন্য আর্থিক অনুদানের চেক প্রদান করা হয়েছে। বুধবার সিদ্ধিরগঞ্জপুলস্থ থানা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই অনুদানের চেক প্রদান করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ মোঃ মজিবুর রহমান। চেক হস্তান্তর করেন শ্রমও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপ-মহা পরিদর্শক জেনারেল শেখ আসাদুজ্জামান ও শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন পরিচালনা পরিষদের সদস্য মোঃ শাহাবুদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ ইয়াছিন মিয়া, আদমজী আঞ্চলিক শ্রমিকলীগের সভাপতি আব্দুস সামাদ বেপারী, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুর রহিম, বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক জোটের সাধারণ সম্পাদক এস, এম মাসুদ রানা, মোঃ বাদল মেম্বার, নারায়ণগঞ্জ মহানগর শ্রমিকলীগের সহ-সভাপতি মোঃ জাহাঙ্গীর পাটোয়ারীসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন রোগ ব্যাধিতে আক্রান্ত আদমজী জুটমিলের ৯ শ্রমিকে মাঝে অনুদানের চেক প্রদান করা হয়। চেক প্রাপ্তরা হলো- বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ সুন্দর আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ হানিফ, মোঃ আবুল কাশেম, মোঃ আয়াত আলী, আব্দুর রব, আবু তাহের, করিম শিকদার, নূরুল আমিন ও মোঃ হারুন অর রশিদ।

কেপিএমে শ্রমিক বিক্ষোভ, উৎপাদন বন্ধের শঙ্কা

কেপিএমে শ্রমিক বিক্ষোভ, উৎপাদন বন্ধের শঙ্কা

কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই বদলির আদেশের ঘটনায় টানা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন দেশের সর্ববৃহৎ কাগজকল কর্ণফুলী পেপার মিলস লিমিটেডের (কেপিএম) শ্রমিক-কর্মচারীরা। এখনো পর্যন্ত বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিষ্ঠানটিতে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। গণবদলির কারণে প্রতিষ্ঠানটির শ্রমিক-কর্মচারীরা বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যাওয়ায় উৎপাদন বন্ধের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। শ্রম আইন, ২০০৬-এর ১৮৭ ধারা অনুযায়ী ‘কোনো ট্রেড ইউনিয়নের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক ও অর্থ সম্পাদককে সম্মতি ব্যতিরেকে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় বদলি করা যাবে না।’ অথচ এই আইনের তোয়াক্কা না করে কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই ৬ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠানটির ৩০২ জন শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তাকে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) নিয়ন্ত্রণাধীন টিএসপি, সিআইএফএল, ডিএপি ও ইউজিএস সার কারখানায় বদলি করা হয়। এতে আন্দোলন শুরু করেন কেপিএমে শ্রমিক-কর্মচারীরা। এ ব্যাপারে শ্রমিক নেতারা জানান, দাবি মানা না হলে কঠোর কর্মসূচির পাশাপাশি আইনি লড়াইয়ে যাবেন তারা। কেপিএমের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, গণবদলির বিষয়ে শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বিসিআইসি চেয়ারম্যানের সোমবার বৈঠক হবে। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। জানা গেছে, কেপিএমের বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৩০ হাজার টন হলেও এখন ১০ হাজার টনের বেশি উৎপাদন হচ্ছে না। এর মধ্যে শ্রমিক-কর্মচারীরা আন্দোলনে যাওয়ায় উৎপাদনই বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

টিআইবির গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি পোশাক খাতে ১৬ ধরনের দুর্নীতি

টিআইবির গবেষণা প্রতিবেদন
তৈরি পোশাক খাতে ১৬ ধরনের দুর্নীতি

দেশের তৈরি পোশাক খাতে ১৬ ধরনের দুর্নীতি প্রায় নিয়মে পরিণত হয়েছে। কারখানার মালিক ও মার্চেন্ডাইজারের পাশাপাশি দুর্নীতি করছে বিদেশী ক্রেতারাও। ক্রেতারা পণ্যের ডিসকাউন্ট পাওয়ার উদ্দেশ্যে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে ব্ল্যাকমেইল করেন। মার্জেন্ডাইজার, কমপ্লায়েন্স নিরীক্ষক ও তাদের কাছ থেকে সন্তোষজনক প্রতিবেদন লাভের জন্য মোটা অংকের ঘুষ লেনদেন এবং নকল কাগজপত্র তৈরি করে কমপ্লায়েন্স পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও দুর্নীতি হয়। তাছাড়া ওয়ার্ক অর্ডার লাভ, উৎপাদন এবং সরবরাহের বিভিন্ন ধাপে সংঘটিত হয় নানা দুর্নীতি। এ তথ্য প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। প্রতিবেদনে বলা হয়, তৈরি পোশাক খাতের সাপ্লাই চেইনে বিভিন্ন ধাপে দুর্নীতির ব্যাপক চর্চা বিদ্যমান। এ খাতে সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কার্যকর কাঠামোগত ঘাটতি রয়েছে। গবেষণা প্রতিবেদনে ক্রেতা, সরকার, বিজিএমই এবং নাগরিক সমাজের উদ্দেশ্যে ১৪ দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়। টিআইবি ২০১৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত গবেষণাটি সম্পাদন করে। স্বনামধন্য বিদেশী ক্রেতা, বায়িং হাউস, কারখানার মালিক, শ্রমিক, কমপ্লায়েন্স নিরীক্ষকসহ ৭০টি অংশীদার প্রতিষ্ঠান ও প্রতিনিধির কাছ থেকে গবেষণার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়। প্রতিবেদনটি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে বার্লিনে প্রকাশ করে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমণ্ডির মাইডাস সেন্টারে টিআইবি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনের এ তথ্য তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে ‘তৈরি পোশাক খাতের সাপ্লাই চেইনে অনিয়ম ও দুর্নীতি মোকাবেলায় অংশীদারদের করণীয়’ শীর্ষক গবেষণা ফলাফল প্রকাশ করা হয়। গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, তৈরি পোশাক খাতের সাপ্লাই চেইনে তিনটি ধাপে ১৬ ধরনের দুর্নীতি সংঘটিত হচ্ছে। ওয়ার্ক অর্ডার লাভের পর্যায়ে ৪ ধরনের দুর্নীতি হয়। এখানে ঘুষ দেয়া হয় কমপ্লায়েন্স নিরীক্ষককে। বায়ার নির্ধারিত কমপ্লায়েন্স চাহিদা সম্পর্কে সন্তোষজনক প্রতিবেদন লাভের অভিপ্রায়ে তাকে ঘুষ দেয়া হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিরীক্ষক হিসেবে তৃতীয় পক্ষ নিয়োগ পেলে এবং কারখানা পরিদর্শনে গেলে মালিকের পক্ষে কমপ্লায়েন্সের ত্র“টি-বিচ্যুতি লুকানো সম্ভব হয় না। সেক্ষেত্রে কারখানার মালিক কমপ্লায়েন্স নিরীক্ষককে ঘুষ দিয়ে ইতিবাচক প্রতিবেদন করান। ছোট কারখানাগুলো কার্যাদেশ পাওয়ার জন্য মার্জেন্ডাইজারদের ঘুষ দিতে হয়। এসব কারখানার সঙ্গে বিদেশী ক্রেতার সরাসরি যোগাযোগ হয় না। তাদের যথাযথ কাগজপত্রও নেই। এ কারণে তারা কার্যাদেশ পেতে মার্চেন্ডাইজারকে ঘুষ দেন ছোট কারখানার মালিক। কার্যাদেশে প্রাপ্ত অর্থের একটি অংশ কমিশন হিসেবে দেয়ার চুক্তি করেন তিনি। মার্চেন্ডাইজার এ প্রলোভনে রাজি হন এবং কিছু উৎপাদন ইউনিটকে সাব-কন্ট্রাক্টে কাজ দেয়ার ব্যবস্থা করেন। কারখানার মালিক কার্যাদেশ পাওয়ার জন্য নকল কাগজপত্র তৈরি করেন। প্রয়োজন অনুযায়ী কাগজপত্র পরিবর্তন, ব্যবসা সম্প্রসারণ, উৎপাদন শুরুর আগে ক্রেতা নিরীক্ষণ, সরকারি কারখানা পরিদর্শকের পরিদর্শনের আগে নকল কাগজপত্র তৈরি করেন তিনি। জালিয়াতির উদ্দেশ্য কার্যাদেশ লাভের প্রক্রিয়ায় কাজে লাগানো। সরবরাহকারী কর্তৃক ক্রয়ের সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তারেও আর্থিক লেনদেন হয়। খুচরা বিক্রেতার কাছ থেকে বেশি লাভের প্রত্যাশায় তৈরি পোশাক সরবরাহকারী উৎপাদন খরচ কমানোর জন্য রেজিস্ট্রিবিহীন কারখানায় উৎপাদন করানোর জন্য উৎসাহিত করেন। অমনোনীত উৎস থেকে প্রয়োজনীয় উপকরণ কেনায় উৎসাহিত করেন। উপরন্তু সে বায়ারের পক্ষে কর্মরত ব্যক্তিকে কমিশন গ্রহণেও প্রভাবিত করে। উৎপাদনের ক্ষেত্রে সংঘটিত হয় ৯ ধরনের দুর্নীতি। মার্চেন্ডাইজারের কারখানাকে নির্দিষ্ট কারখানা থেকে উপকরণ ক্রয়ে বাধ্য করা, প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত উপকরণ আমদানি এবং বাড়তি উপকরণ খোলাবাজারে বিক্রি, সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের মধ্যে মুনাফা ভাগ করে দেয়া, তৈরি পোশাক কারখানার ব্যাক টু ব্যাক এলসি ভাঙানো, কারখানার মালিক ব্যাংক থেকে এলসির বিপরীতে সব অর্থ উত্তোলন করে ব্যক্তিগত কাজে ব্যয়, কারখানার মালিক কর্তৃক শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি, কর্মঘণ্টা এবং শ্রমিক অধিকার সংক্রান্ত আইন লংঘন, বিদেশী ক্রেতাদের অনাবশ্যক প্রয়োজনীয়তা পূরণে জোর করা, বেআইনিভাবে অন্য কারখানাকে সাব-কন্ট্রাক্ট দেয়া, এসএসসি নিরীক্ষককে তাদের প্রাপ্ত তথ্য গোপন করতে ঘুষের প্রস্তাব দেয়া, ক্রেতার পক্ষ থেকে ইচ্ছেমতো কার্যাদেশ বাতিল করা, ক্রেতা কর্তৃক পরিদর্শন বা কমপ্লায়েন্স পরিবর্তন করার ক্ষেত্রে দুর্নীতি হয়। গবেষণায় দেখা যায়, সরবরাহের পর্যায়ে হয় ৩ ধরনের দুর্নীতি। মানের ঘাটতি ও নিুমানের পণ্যের বিষয় এড়িয়ে যাওয়ার জন্য কারখানার পক্ষ থেকে মান-নিয়ন্ত্রককে ঘুষ দেয়া, অনুমোদনের জন্য কোয়ালিটি ইন্সপেক্টরের নিয়ম বহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত অর্থ দাবি ও বন্দর পরিদর্শনের সময় ক্রেতার মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন। এ ধরনের পরিস্থিতিতে ক্রেতা সব কার্যাদেশ বাতিল এবং সম্পূর্ণ চালান পুনরায় কারখানার গুদামে ফেরত পাঠানোর হুমকি দেয়। এ ক্ষেত্রে বিদেশী ক্রেতা মূলত পণ্যের ডিসকাউন্ট পাওয়ার উদ্দেশ্যে উৎপাদন ইউনিটকে ব্ল্যাকমেইল করে। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। এ সময় টিআইবির উপ-নির্বাহী পরিচালক ড. সুমাইয়া খায়ের, মোহাম্মদ রফিকুল হাসান, অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রাম ম্যানেজার নাজমুল হুদা মিনা, ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার নিনা শামসুর রহমান, সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার শাহজাদা এম আকরাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, প্রতিবেদনে উঠে আসা তথ্য-উপাত্ত নিয়ে আমরা অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা করব। কারণ সুশাসনের দায় আমাদের। মুনাফা স্বচ্ছ করার জন্য সুশাসন দরকার। তিনি বলেন, রানা প্লাজার ট্রাজেডির পর বিদেশী ক্রেতাদের মধ্যে কারখানা মালিকদের চাপ দিয়ে ত্বরিত মুনাফা করার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।

হবিগঞ্জে শ্রমিক ধর্মঘটে স্টার সিরামিকসে উৎপাদন বন্ধ

হবিগঞ্জে শ্রমিক ধর্মঘটে স্টার সিরামিকসে উৎপাদন বন্ধ

শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে ধর্মঘটে বন্ধ রয়েছে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার টাইলস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান স্টার সিরামিকস কোম্পানির উৎপাদন কার্যক্রম। ধর্মঘটের কারণে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত সচল হয়নি উৎপাদন কার্যক্রম। এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে উৎপাদন বন্ধ করে দেন শ্রমিকরা। শ্রমিকরা জানান, স্টার সিরামিকসে কর্মকর্তা ও শ্রমিক মিলিয়ে ৫ শতাধিক জনবল রয়েছে। গত ২ ফেব্রুয়ারি কর্তৃপক্ষ চলতি বছরের ইনক্রিমেন্ট ঘোষণা করে। কিন্তু এতে শ্রমিকদের প্রত্যাশিত বেতন বাড়েনি। ফলে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটা থেকে শ্রমিকরা উৎপাদন বন্ধ রেখে ধর্মঘট শুরু করেন। রাতে তারা অফিসের কয়েকটি কম্পিউটার ও বিক্রির জন্য মজুদকৃত কিছু টাইলস ভাঙচুর করেন। খবর পেয়ে হবিগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার মাসুদুর রহমান মনির ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এদিকে শুক্রবার বিষয়টি মিমাংসা হওয়ার কথা থাকলেও স্টার সিরামিকস শ্রকিদের সঙ্গে কোন আলোচনায় না বসে উল্টো স্থানীয় লোকজন দিয়ে শ্রকিদের উপর হামলা চালিয়ে তাদেরকে কোম্পানি থেকে বের করে দেয়। এ নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন সময় পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা দ্রুত এর সমাধান করে পরিস্থিতি শান্ত করার আহ্বান জানান। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে স্টার সিরামিকসের ডেপুটি ম্যানেজার সেলিম আহমেদ জানান, শ্রমিকদের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চলছে। কিন্তু শ্রমিকরা কিছুতেই শান্ত হচ্ছেন না।

হবিগঞ্জে প্রাণ-আরএফএলে ১২ হাজার কর্মসংস্থান

হবিগঞ্জে প্রাণ-আরএফএলে ১২ হাজার কর্মসংস্থান

হবিগঞ্জের ওলিপুরে আধুনিক কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠির আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। বৃহস্পতিবার হবিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক (বিপণন) কামরুজ্জামান কামাল। তিনি বলেন, ২০১৪ সালের মার্চে শায়েস্তাগঞ্জে এ কারখানাটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। গত দুই বছরে এখানে ১২ হাজার লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে, এলাকার সামাজিক সূচকের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। তিনি জানান কারখানায় শ্রমিক-কর্মচারিদের জন্য নিরাপদ খাদ্য, স্বাস্থ্য, পরিস্কার-পরিছন্নতাসহ নানা সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। পাশাপাশি নারীর ক্ষমতায়ন, বৈষম্য প্রতিরোধ ও কারখানায় নারী-বান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে কাজ করে যাচ্ছে দেশের অন্যতম এ প্রতিষ্ঠানটি।

পোশাক কারখানায় ৪০ লাখের বেশি শ্রমিক কাজ করছে

পোশাক কারখানায় ৪০ লাখের বেশি শ্রমিক কাজ করছে

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, বর্তমানে দেশের তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করছে ৪০ লাখেরও বেশি শ্রমিক। এসব শ্রমিক আমাদের দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের কাজ করছে। কিন্তু তারা যেটুকু সুযোগ সুবিধা পাওয়ার কথা তা আমরা দিতে পারছি না। বুধবার জাতীয় সংসদে মুন্সিগঞ্জ-১ আসনের সুকুমার রঞ্জন ঘোষের লিখিত প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ২৮টি দেশসহ মোট ৫২টি দেশে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সুবিধা পায়। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ২৮টি দেশ, সার্কভুক্ত দেশসমূহ, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড, জাপান, তুরস্ক, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, চিলি, ভুটান, রাশিয়া, বেলারুশ ও কাজাকিস্তানে পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সুবিধা পায় বলেও জানান তিনি। আরেক প্রশ্নের জবাবে তোফায়েল আহমেদ বলেন, দেশীয় শিল্প সংরক্ষণ, উৎপাদনে উৎসাহ প্রদান,আমদানি ব্যবস্থা অধিকতর সহজীকরণ এবং শিল্পের কাচাঁমাল সহজলভ্য করে আমদানি নীতি আদেশ প্রণীত হয়েছে। সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশের আমদানি ও রফতানি ব্যবধান ক্রমান্বয়ে কমে আসছে বলে জানান তোফায়েল আহমেদ।

বন্ধ বস্ত্রকলগুলো লিজ দেয়া হবে: পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী

বন্ধ বস্ত্রকলগুলো লিজ দেয়া হবে: পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী

বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম বলেছেন, ‘দেশের বন্ধ সরকারি বস্ত্রকলগুলো বিক্রি করা হবে না, বরং লিজ দেয়া হবে। বস্ত্রকল মালিকরা চাইলে তাদের মাঝে প্লট আকারে ভাগ করে দেয়া হবে।’ এজন্য প্রকল্প জমা দেয়ার আহ্বান জানান তিনি। বৃহস্পতিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ১৩তম ঢাকা আন্তর্জাতিক টেক্সটাইল অ্যান্ড গার্মেন্ট মেশিনারি এক্সিবিশন ২০১৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) ও তাইওয়ানের চান চাও ইন্টারন্যাশনাল যৌথভাবে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। চারদিনব্যাপী প্রদর্শনী প্রতিদিন বেলা ১২টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। মির্জা আজম বলেন, এক সময় বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেয়া সরকারি বস্ত্রকলের মধ্যে ৭০টি মত বস্ত্রকল বন্ধ হয়ে গেছে। বেসরকারি খাতে দেয়ার সময় যেসব শর্ত দেয়া হয়েছিল সেসব শর্ত ভঙ্গকারীদের থেকে বস্ত্রকল আবার ফিরিয়ে আনা হবে। এসব বস্ত্রকল প্রতিটি ৫০ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত। ব্যবসায়ীরা চাইলে ছোট ছোট প্লটে এগুলো ব্যবসায়ীদের লিজ দেয়া হবে। এ ছাড়া ঢাকা, টাঙ্গাইল ও নারায়ণগঞ্জের আশপাশে প্রকল্প করতে চাইলে সরকার সহযোগিতা করবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম বলেন, বস্ত্র ও পাটশিল্প এগিয়ে চলছে। এ খাত থেকে ২০২১ সালের মধ্যে পাঁচ হাজার কোটি ডলার রফতানি আয়ের আয়ের উদ্দেশ্যে কাজ করতে হবে। বর্তমানে দেশের এ খাতে ১৩ হাজার বিদেশি নাগরিক কাজ করছেন। তারা যে বেতন পান তা দিয়ে তিন লাখ শ্রমিকের বেতন দেয়া সম্ভব। দক্ষ জনবল তৈরি করতে দেশের বড় জেলাগুলোয় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি করে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপন করা হবে। আর প্রত্যেক জেলায় ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি করে ভোকেশনাল কলেজ ও ইনস্টিটিউশন স্থাপন করা হবে। এরই মধ্যে ৯টি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে কাজ চলছে।