শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭

সাক্ষাৎকার

তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ খুবই সম্ভাবনাময় একটি দেশ

তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ খুবই সম্ভাবনাময় একটি দেশ

বর্তমানে বিশ্বের প্রায় সব দেশেই বিভিন্ন স্টার্টআপকে খুবই গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। এর কারণ হলো এক সময় এসব স্টার্টআপগুলোই প্রযুক্তি বিশ্বের নেতৃত্ব দেবে। ছোট ছোট এসব প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করে থাকে বিভিন্ন ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান। এমনই একটি প্রতিষ্ঠান হলো সিলিকন ভ্যালিভিত্তিক ফেনক্স ভেঞ্চার ক্যাপিটাল। ইতোমধ্যেই বাংলাদেশেও প্রতিষ্ঠানটি কার্যক্রম শুরু করেছে। বাংলাদেশে ফেনক্সের বিনিয়োগ এবং আনুষঙ্গিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ইত্তেফাকের সাথে কথা বলেছেন এর সিইও এবং জেনারেল পার্টনার আনিস উজ্জামান। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন শাহাদাত হোসেন।

আমদের মূল লক্ষ্য সংস্কৃতির চর্চা বাড়ানো- সাংস্কৃতিকমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর

আমদের মূল লক্ষ্য সংস্কৃতির চর্চা বাড়ানো- সাংস্কৃতিকমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর

বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক উৎসব নিয়ে বলুন আমাদের জেলা পর্যায়ের প্রশিক্ষণার্থী, শিক্ষক এবং স্থানীয় শিল্পীদের নিয়ে এই উৎসব। আমরা প্রতিটি জেলার পরিবেশনায় পুরো জেলার একটা চিত্র তুলে আনার চেষ্টা করেছি। এই উৎসবের উদ্দেশ্য শিল্প-সংস্কৃতির চর্চাকে তৃণমূল পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া এবং তৃণমূল পর্যারে প্রতিভাগুলোকে ঢাকার দর্শকদের সামনে তুলে ধরা। দূরের জেলাগুলোর জন্য বরাদ্দ নিয়ে অভিযোগ উঠেছে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে একটা গড় বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, কিন্তু দূরের জেলা থেকে যারা এসেছেন তাদের অনেক খরচ হয়েছে। আগামীতে এই সমস্যাটা সমাধানের চেষ্টা করব। তবে স্থানীয় প্রশাসন ও সচ্ছল ব্যক্তি যারা আছেন; সবাই মিলে সহযোগিতা করলে এই অর্থ জোগাড় করা কোন বড় ধরনের সমস্যা না। একটা দেশ শুধু সরকারই চালাতে পারে না। আমাদের শিল্প-সংস্কৃতির চর্চার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বলুন আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা, অভিভাবক এবং শিক্ষকদের দৃষ্টিভঙ্গির কারণে সংস্কৃতি চর্চা যেভাবে শিশু এবং কিশোরদের মধ্যে বিস্তৃতি লাভ করার কথা ছিল, সেইভাবে হচ্ছে না। আমাদের অভিভাবকরা মনে করছে ছেলেমেয়েদের কেবল পরীক্ষায় পাস করতে হবে। তাই ছাত্রছাত্রীরা এখন না শিখে কে কত গ্রেড পাবে সেই চিন্তায় থাকে। এখন ছেলেমেয়েরা আকাশ, পাখি, ফুল, নদী প্রকৃতি দেখে না, গান গায় না, কবিতা আবৃত্তি করে না, ছবি আঁকে না, খেলাধূলাও করে না। এরা সারাক্ষণ কোচিং এর মধ্যে আটকে গেছে। এমন চলতে থাকলে নতুন প্রজন্মের মধ্যে সাম্প্রদায়িক শক্তি, অন্ধকারের শক্তি জায়গা করে নেবে। তাই আমাদের মূল লক্ষ্য সংস্কৃতির চর্চা বাড়ানো। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সাংস্কৃতিক চর্চা বড়ানো নিয়ে কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন? প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে একটা সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করেছি। আমি মনে করি এটি শিশু-কিশোরদের মধ্যে বিরাট ভূমিকা রাখবে। তবে উচ্চ বিদ্যালয়গুলোতে এখনও যেতে পারিনি। এই স্কুলগুলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে, যদিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে; কিন্তু শিক্ষকদের মধ্যেই এই বিষয়ে কোন আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। শিক্ষকরা প্রাইভেট পড়াতে ব্যস্ত। আমাদের সময় কিন্তু স্কুল-কলেজের শিক্ষকরা বিতর্ক প্রতিযোগিতা করতে, দেয়াল পত্রিকা বের করতে বাধ্য করত। এখন শিক্ষকরা এসব তাগিদ দেয় না, তাদের আগ্রহ নেই এবং সময়ও নেই। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অবকাঠামো উন্নতির কাজ কতদূর এগিয়েছে? আমরা প্রত্যেকটি জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে মিলনায়তন তৈরির কাজ শুরু করেছি। কিন্তু প্রশ্ন হলো এইসব সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করবে কে? সারাদেশে সাংস্কৃতিক চর্চা কমে গেছে, আমরা যদি বিনে পয়সায়ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলুকে এইসব মিলনায়তন ব্যবহার করতে দেই তার পরেও তারা বরাদ্দ নিচ্ছে না। এইসব পরিস্থিতি বিবেচনা করেই আমরা নানাভাবে শিল্প-সাংস্কৃতিক চর্চা বাড়ানোর চেষ্টা করছি। সংস্কৃতিচর্চা বাড়ানোর জন্য শুধু উৎসবই যথেষ্ট নয়। নানা ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মশালার ব্যবস্থা করতে হবে। এবং আমরা তা করছি। আগামীতে শিল্পীদের সম্মানী বাড়ানোর পরিকল্পনা আছে? আমরা শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীদের সম্মানী আগের তুলনায় বৃদ্ধি করেছি; যদিও সেটাই যথেষ্ট নয়। আমরা আগামীতে সম্মানী আরও বাড়াতে চেষ্টা করব। তার পরেও আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছি শিল্পীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করতে। আগামী বাজেটে সংস্কৃতি খাতে বরাদ্দ বাড়ার সম্ভাবনা কতটুকু? আমাদের সংস্কৃতির বাজেট বেড়েছে এবং আগামীতে এই বাজেট আরও বাড়বে আশা করছি। আমাদের অর্থমন্ত্রী এই আশ্বাস দিয়েছেন, এবং আমাদের প্রধানমন্ত্রীও আশ^াস দিয়েছেন- সংস্কৃতি ক্ষেত্রে বাজেট বাড়ানো হবে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে শিল্পীদের ভাতার একটা ব্যবস্থা চালু আছে, আমরা সেটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছি আমাদের এখানেও এরকম ব্যবস্থা চালু করা যায় কি-না। এই প্রস্তাবটা আমরা আগামী বাজেটে উপস্থাপন করব। ইতোমধ্যে আমরা সাংস্কৃতিক দলগুলোকে অনুদান দেয়ার ব্যবস্থা চালু করেছি। কিন্তু অভিযোগ আছে অনুদান সঠিকভাবে বণ্টন হচ্ছে না আমরা অভিযোগ পেয়েছি তালিকাভুক্ত যেসব সংগঠন অনুদান পাচ্ছে সেখানে অনেক নামধারী সংগঠনও আছে যাদের কোন সাংস্কৃতিক কর্মকা- নেই। আমরা সেইগুলোকে চিহ্নিত করেছি। আপনার অভিনয়ের কোন খবর আছে? না, মন্ত্রী হবার পর সময়ের অভাবে একদমই অভিনয় করতে পারছি না। মঞ্চের জন্যে নতুন কোন কাজ করছেন? দলেও তেমন সময় দিতে পারছি না এখন। কিছুদিন আগে আমাদের দল নাগরিকের একটা নাটক নতুন করে মঞ্চে আনে। কিন্তু সেটা আগের নির্দেশনা ছিল বলে সম্ভব হয়েছে। সংগৃহিত।