শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭

তারুণ্য

তরুণদের প্রথম পছন্দ আইটি প্রফেশনাল

তরুণদের প্রথম পছন্দ আইটি প্রফেশনাল

আইটি বিষয়ক প্রফেশনাল কোর্স করে নিজেকে আইটি প্রফেশনাল হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন। সময়ের সাথে সাথে দেশ যতই এগিয়ে যাচ্ছে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ততই আইটি নির্ভর হয়ে পড়ছে। যার ফলে আইটি সেক্টর হয়ে উঠেছে ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্টের জন্য তরুণ-প্রজন্মের প্রথম পছন্দ। আইটি সেক্টরের বিভিন্ন ধরনের বিশেষায়িত শাখা যেমনঃ এ্যানিমেশন ও মাল্টিমিডিয়া, ইন্টেরিয়র ও আর্কিটেকচার, হার্ডওয়্যার ও  নেটওর্য়াকিং, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং, ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট, ওয়েব ডিজাইন এন্ড ডেভলপমেন্ট, আউটসোর্সিং প্রভৃতি সেক্টরই স্বপ্নময় সম্ভাবনা সমৃদ্ধ, কিন্তু দরকার বিশেষায়িত দক্ষতা ও জ্ঞানের গভীরতা এবং বাস্তবমুখী শিক্ষার প্রায়োগিক ক্ষমতা। কিন্তু আমাদের দেশে বাস্তবমুখী শিক্ষা গ্রহনের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক দক্ষ ও মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভাবই এক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায় হয়ে দেখা দিয়েছে।

শুরু হয়েছে ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০১৭’ প্রতিযোগিতা, বাংলাদেশের ফ্র্যাঞ্চাইজ অন্তর শো-বিজ

শুরু হয়েছে ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০১৭’ প্রতিযোগিতা, বাংলাদেশের ফ্র্যাঞ্চাইজ অন্তর শো-বিজ

মিস ওয়ার্ল্ড একটি বিশ্ববিখ্যাত সুন্দরী প্রতিযোগিতার আসর। বাংলাদেশে এই প্রথম মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের ফ্র্যাঞ্চাইজ নিয়ে আসছে অন্তর শো-বিজ এবং অমিকন ইন্টারটেইনমেন্ট।

গতকাল শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে এই প্রতিযোগিতার প্রথম বাছাই পর্বের রেজিস্ট্রেশন। প্রতিযোগিতার পরবর্তী পর্ব অডিশন এবং টিভি রাউন্ড শুরু হবে ১লা সেপ্টেম্বর এবং পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন পর্ব শেষে চূড়ান্ত গালা রাউন্ড অনুষ্ঠিত হবে ২৯শে সেপ্টেম্বর ২০১৭।  

গত ২৭ জুলাই মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের পর্দা উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। বাংলাদেশে নারী উন্নয়নের লক্ষ্যে এরকম পদক্ষেপ গ্রহণের জন্যে সকলের প্রতি আহ্বান জানান। 

যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি মেয়ে ফারজানা রহমানের সফলতার গল্প

যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি মেয়ে ফারজানা রহমানের সফলতার গল্প

ফারজানা রহমান। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ওয়েলসে পিএইচডি করছেন ‘কম্পিউটেশনাল বায়োলজি’ নিয়ে। কাজ করছেন উদ্ভিদ ও প্রাণীতে বিষক্রিয়া ছড়ায় এমন ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য অণুজীবের উৎপত্তি এবং বিকাশের বিভিন্ন দিক নিয়ে। একই সঙ্গে বাংলাদেশি এই মেয়ে ২০১৮ সালের জন্য স্টুডেন্ট কাউন্সিল ফর কম্পিউটেশনাল বায়োলজির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। এটি সারাবিশ্বের কম্পিউটেশনাল বায়োলজি নিয়ে কাজ করাদের সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কম্পিউটেশনাল বায়োলজি বা আইএসসিবি-এর একটি শাখা সংস্থা।

ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও কলেজ থেকে ২০০১ সালে এসএসসি এবং ২০০৩ সালে এইচএসসি পাস করেন ফারজানা রহমান। পরে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ওয়েলসে স্নাতক শেষ করেন তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিষয়ে। স্নাতক পড়ার সময়ই শিক্ষানবিশ গবেষক হিসেবে কাজ করেছেন ‘বশ ইঞ্জিনিয়ারিং’ কোম্পানির যুক্তরাজ্য শাখায়। পেয়ে যান ওই প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষাবৃত্তি।

নানামুখী প্রতিভার অধিকারী নানজীবা খান

নানামুখী প্রতিভার অধিকারী নানজীবা খান

সদ্য এইচএসসির গণ্ডি পেরিয়েছেন অথচ তিনি একাধারে সাংবাদিক, পরিচালক, উপস্থাপিকা এবং বিতার্কিক।  নানামুখী প্রতিভার অধিকারী নানজীবা খান। এত অল্প বয়সে যে জীবনকে ইচ্ছামতো রঙে রঙে সাজানো যায়, তা নানজীবা খানকে  না দেখলে বোঝা যাবে না।  

ব্রি টিশ আমেরিকান রিসোর্স সেন্টারের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর নানজীবা খানের জীবন একদিন ক্ষুদ্র থেকেই শুরু হয়েছিল। হাতে কলম ধরার আগেই পাঁচ বছর বয়সে মায়ের হাত ধরে রঙ তুলি নিয়ে গিয়েছিল কিশলয় কচিকাঁচার মেলায় ছবি আঁকা ও আবৃত্তি শিখতে।

 ২০০৭ সালে জীবনের প্রথম প্রতিযোগিতা জয়নুল কামরুল ইন্টারন্যাশনাল চিলড্রেন পেন্টিং কম্পিটিশনে অংশগ্রহন  এবং পুরস্কার অর্জন করেন। এরপর ছবি আঁকা,  বিতর্ক ও অন্যান্য ক্ষেত্রে জুটেছে বেশ কিছু জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পুরস্কার। জুটেছে উপস্থিত ইংরেজি বক্তৃতায় ভারত্বেশ্বরী হোমসের প্রথম পুরস্কার। দায়িত্ব পালন করেছেন ক্যামরিয়ান কলেজ ডিবেট ফেডারেশনের সহ-সভাপতি হিসেবে।

 এক সময় বসন্ত বরণ, পহেলা বৈশাখ, ফাল্গুন, ঈদ, পূজা ও বিভিন্ন দিবসে সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি তাকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মঞ্চে দেখা যেত। এখন যে যায় না তা নয়, এখন নিজেকে ভিন্ন আঙ্গিকে তুলে ধরছি বলে জানালেন নানজীবা খান।

জাতীয় সমবায় দিবস আজ

জাতীয় সমবায় দিবস আজ

‘সমবায়ের দর্শন টেকসই উন্নয়ন’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজ শনিবার দেশব্যাপী উদযাপন করা হচ্ছে ৪৫তম জাতীয় সমবায় দিবস। দেশব্যাপী দিবসটি উদযাপনের জন্য সমবায় অধিদফতরের পক্ষ থেকে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সকাল সাড়ে আটটায় মত্স্য ভবন এলাকা থেকে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন পর্যন্ত সমবায় র্যা লির আয়োজন করা হয়। সকাল ১০টায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় পতাকা ও সমবায় পতাকা উত্তোলন করা হয়। দিবসটি উলপক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। ‘সমবায়ের দর্শন টেকসই উন্নয়ন’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজ শনিবার দেশব্যাপী উদযাপন করা হচ্ছে ৪৫তম জাতীয় সমবায় দিবস। দেশব্যাপী দিবসটি উদযাপনের জন্য সমবায় অধিদফতরের পক্ষ থেকে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সকাল সাড়ে আটটায় মত্স্য ভবন এলাকা থেকে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন পর্যন্ত সমবায় র্যা লির আয়োজন করা হয়। সকাল ১০টায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় পতাকা ও সমবায় পতাকা উত্তোলন করা হয়। দিবসটি উলপক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

ভিন্নধর্মী ভালোবাসা দিবস উদযাপন করে মাস্তুলের দুই শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী

ভিন্নধর্মী ভালোবাসা দিবস উদযাপন করে মাস্তুলের দুই শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী

ভালোবাসা তো শুধু দুজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় ভালোবাসা সবার জন্য । পথশিশু, পানওয়ালা, বাদামওয়ালা, চটপটিওয়ালা, পরিষ্কার কর্মী, সিকিউরিটি গার্ডের জন্য যেন ভালোবাসা দিবস আসে না। ভালোবেসে তাদের খোঁজ খবর নেয়া তো দূরের কথা তাদের নামটি ধরে ডাকার মত যেন কেউ নেই। বিশ্ব ভালোবাসা দিবস তাদের জন্য অন্য রকম কোনো বার্তা নিয়ে আসে না। কিন্তু এবারের ভালোবাসা দিবসটি তাদের জন্য একটু আলাদাই ছিল। এর সাথে সাথে একটি ভিন্নধর্মী ভালোবাসা দিবস উদযাপন করে মাস্তুলের দুই শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী। কারণ এই ভালোবাসা দিবসে তাদের অনেকের হাতে গোলাপ ফুল তুলে দিয়েছেন একটু ভালোবাসা ছোঁয়া দেয়ার চেষ্টা করেছে মাস্তুলের এই তরুণ-তরুণীরা। ভালোবাসা হোক সবার মাঝে পেশা-ধর্ম-জাতি নির্বিশেষে— এই স্লোগানকে সামনে নিয়ে এই উদ্যোগ নেয় মাস্তুল ফাউন্ডেশন। লক্ষ্য ছিল— সারাবছর ধরে যারা নানাভাবে মানুষকে সেবা দিয়ে থাকেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা দেখানো এবং তাদের মাঝে ভালোবাসার উষ্ণতা ছড়িয়ে দেয়া। মাস্তুল তাদের এই অসাধারণ উদ্যোগের নাম দিয়েছে- প্রোজেক্ট লাভ ফর অল।

তরুণ নেতৃত্বে অবদানের জন্য ‘আশোকা ফেলো’ নির্বাচিত

তরুণ নেতৃত্বে অবদানের জন্য ‘আশোকা ফেলো’ নির্বাচিত

বাংলাদেশের তরুণদের নিয়ে নেতৃত্বের কাজকে ত্বরান্বিত করায় অবদান রাখায় বাংলাদেশ ইয়ুথ লিডারশিপ সেন্টার (বিওয়াইএলসি)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট ইজাজ আহমেদ ‘আশোকা ফেলো’ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। সামাজিক গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা সমাধানে সৃজনশীল সমাধানে অবদান রাখা সামাজিক উদ্যোক্তা এবং এ ব্যাপারে পথপ্রদর্শক ব্যক্তিদেরকে ‘আশোকা ফেলো’ হিসেবে নির্বাচন করা হয়। এই নির্বাচনের মাধ্যমে ইজাজ আহমেদ বিশ্বের ৭০টি দেশ থেকে বাছাইকৃত প্রায় ৩০০০ ক্ষমতাশালী এবং সম্মানিত সামাজিক উদ্যোক্তাদের দলে অন্তর্ভুক্ত হলেন। ২০০৬ থেকে ২০০৮ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা করার সময় ইজাজ বিওয়াইএলসি’র তৈরির ব্যাপারে চিন্তা করেন এবং ২০০৯ সালে বাংলাদেশে একটি সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত ৭ বছর বিওয়াইএলসি প্রায় ২৫০০ শিক্ষার্থীকে নেতৃত্ব বিষয়ক প্রশিক্ষণ দিয়েছে, যাদের মধ্যে অনেকেই দেশে বিদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্বের চর্চা করে যাচ্ছে। আশোকা বাংলাদেশের কান্ট্রি লিডার আব্দুল্লাহ চৌধুরী বলেন, সামাজিক বিভিন্ন ক্ষেত্রের যোগ্য তরুণ প্রজন্মের পরিবর্তনের জন্য ইজাজ আহমেদ যে কাজ করে যাচ্ছেন তার স্বীকৃতি স্বরূপ তাকে এই আজীবন ফেলোশিপটির জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। বাংলাদেশের তিনটি শিক্ষামাধ্যম তথা—বাংলা, ইংরেজি ও মাদ্রাসা মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা ও পারস্পরিক বোঝাপড়াকে ছড়িয়ে দেওয়ার যে প্রচেষ্টা তা সমাজে শান্তি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আলোচিত। আশোকা, বিশ্বব্যাপী সামাজিক উদ্যোক্তাদের সর্ববৃহত্ নেটওয়ার্ক এবং একটি আন্তর্জাতিক এনজিও; যা ১৯৮০ সালে বিল ড্রায়তন প্রতিষ্ঠা করেন। ‘আশোকা ফেলোগন’ একটি দীর্ঘ এবং নিখুঁত নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচিত হন; যাতে প্রত্যেকটি প্রার্থীর সৃজনশীলতা, উদ্যোগ গ্রহণের প্রতি আগ্রহ, সততা, তাদের কাজের প্রভাব এবং সম্প্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনাকে যাচাই করা হয়।

শূন্যতা থেকে অনুপ্রেরণা

শূন্যতা থেকে অনুপ্রেরণা

ছোটবেলা থেকে তিনি নানা রকম স্বপ্ন দেখেছেন। বিজ্ঞানে পড়তে গিয়ে ভাবতেন ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ার হবেন। আবার যখন টেলিভিশনে সিনেমায় দেখতেন আইনজীবীর ভূমিকা, তখন আইন নিয়েও পড়তে চাইতেন। ইচ্ছে হতো সব হওয়ার। কখনো মানুষের সেবা করতে চিকিত্সক, কখনো চাইতেন আকাশে ডানা মেলে ওড়া পাইলট হতে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি হলেন ইঞ্জিনিয়ার। ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল আজিজের শুরুর গল্পটা এমনই। বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে কাটাতেই তাদের আগ্রহেই বাংলাদেশ রেলওয়েতে চাকরির পরীক্ষা দেন। ভাগ্য সহায় হওয়ায় চাকরি হয়ে যায়। প্রথম পোস্টিং হয় চট্টগ্রামে। বাবা-মাকে ছেড়ে তিনি তখন ঢাকা থেকে যেতে চাইলেন না, দু মাস চাকরি করার পরও বদলী হয়ে ঢাকায় আসাও সম্ভব হলো না। দোটানায় ভুগতে ভুগতে তখন সিদ্ধান্ত নিলেন চাকরিটা ছেড়েই দেবেন। নিজেই করবেন কিছু। অন্যের হয়ে তার কাজ আর কতদিন! নিজেই গড়বেন নিজের প্রতিষ্ঠান। আর বাবার আদর্শে সবসময় সত্ পথে উপার্জনের অনুপ্রেরনাটা বরাবরই কাজ করেছে ইঞ্জিনিয়ার আজিজের মাঝে। বায়িং হাউসের কাজ দিয়ে শুরুটা হলেও সুনির্দিষ্ট ধারণার অভাবে অনেকটা মুষড়ে পড়েন তবে সব প্রতিকূলতার মাঝেও হাল ছাড়েননি তিনি, ব্যবসাকেই বেছে নিলেন। চারপাশের অনেকে বলছিলেন, ‘সরকারি চাকরি ছেড়ে বিরাট ভুল করেছ, সারাজীবন আফসোস করতে হবে।’ কিন্তু তিনি দমে যাননি। নিজেকে একটু ঝালিয়ে নিতে শুরুতেই বিজিএমইএর এক প্রতিষ্ঠান বিআইএফটি থেকে নিলেন প্রশিক্ষণ। এরপর শুরু করলেন পরিকল্পনা। বিআইএফটিতে তিনি দেখলেন, ৩০-৪০টি সিটের জন্য হাজার দুয়েক পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে, বাকিরা সুযোগ পাচ্ছে না। অথচ অন্যান্য অনেক প্রতিষ্ঠান প্রতারণাও করছে। ভালো প্রতিষ্ঠানের শূন্যতা বা অভাববোধ করতে করতে তখন তিনি ভাবলেন, এ বিষয়ক একটি প্রতিষ্ঠান শুরু করবেন। আত্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে একটি ভালো প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কাজে নেমে পড়েন আব্দুল আজিজ। প্রকৃত শিক্ষার মাধ্যমে প্রতিটি শিক্ষার্থীর কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়াই ছিল তার উদ্দেশ্য। তিনি এমন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন, যা অন্য প্রতিষ্ঠানের জন্য মডেল হবে। এ লক্ষ্য নিয়ে ২০০৭ সালে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ফ্যাশন টেকনোলজির যাত্রা শুরু হয়। কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের অনুমোদন মিলল। তিনি বিআইএফটির কোর্স প্ল্যান, কারিকুলাম, সিলেবাস জোগাড় করে সব গুছিয়ে নিতে বেশ খাটতে হলো তাকে। ভালো শিক্ষক এলেন, বিপুল পরিমাণে শিক্ষার্থী পাওয়া গেল। শর্ট কোর্স চালু হলো। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি আব্দুল আজিককে। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ফ্যাশন টেকনোলজি এখন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর কোর্স চালু করে পুরোদমে কাজ করে গার্মেন্টস সেক্টরে। প্রতিষ্ঠাতা নিজে যেহেতু ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন, সেই চিন্তা থেকে তিনি পরবর্তীতে শুরু করলেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি নামে একটা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট। তারপর একে একে সোনারগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়, ন্যাশনাল রিসার্চ অ্যান্ড সোসাল ডেভলপমেন্ট ফাউন্ডেশনসহ মোট দশটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনার্স এবং মাস্টার্স এবং কিছু প্রতিষ্ঠানে স্বল্পমেয়াদী কোর্স করানো হয়। ব্যর্থতার কাছে তিনি কখনো হার মানেননি। সফল হয়েছেন। সফলতাই এসে ধরা দিয়েছে বারবার। এর পেছনে ছিল কঠোর পরিশ্রম, দায়বদ্ধতা। এখন দেখছেন আরও বড় স্বপ্ন। প্রতিষ্ঠা করছেন একটি বিশ্ববিদ্যালয়। প্রথমসারির বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার সেই লক্ষ্যে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত আন্তরিকতা আর সাফল্যই তার মূলমন্ত্র। বর্তমান প্রজন্ম কীভাবে শিখছে, এ ব্যাপারে তার মূল্যায়ন জানতে চাইলে তিনি বললেন, শিক্ষাটা শুধু সার্টিফিকেটের জন্য। শিক্ষা মনের খোরাক, বাস্তবিক জীবনে কাজে লাগানোর প্রয়াস। জ্ঞান অর্জনের জন্য শিখতে হবে। শুরুটা ছিল অল্প পরিসর থেকে। চ্যালেঞ্জ হিসেবে ধরে নিয়েছিলেন, নিজেকে নিজের পায়েই দাঁড়াতে হবে। নিজের উপার্জন নিয়ে এগিয়েছেন একটু একটু করে। শুভাকাঙ্ক্ষীরাও পাশে ছিলেন সবসময়। আত্মবিশ্বাস থেকেই আজ তিনি এসেছেন এতদূর।

তরুণ প্রজন্মকে ই-কমার্সে আগ্রহী করতে ই-ক্যাব ইয়্যুথ ফোরামের যাত্রা শুরু

তরুণ প্রজন্মকে ই-কমার্সে আগ্রহী করতে ই-ক্যাব ইয়্যুথ ফোরামের যাত্রা শুরু

তরুণ প্রজন্মকে ই-কমার্সে আগ্রহী করতে যাত্রা শুরু করলো ই-ক্যাব ইয়্যুথ ফোরাম। শুক্রবার রাজধানীর ফ্রেপড অডিটোরিয়াম এ আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রম শুরু করেন বাংলাদেশ এ্যাসোসিয়েশন অফ সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) সভাপতি শামীম আহসান। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে সম্ভাবনাময় ই-কমার্স খাত। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে ইতিমধ্যেই এই খাতের বার্ষিক লেনদেন ২০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। ক্রেতাদের আস্থা অর্জন করতে পারলে আগামী ১০ বছরের মধ্যেই দেশের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় খাত হবে ই-কমার্স। সেখানে প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে আজকের তরুণরাই। উদ্যোক্তা থেকে শুরু করে কয়েক লাখ তরুণের কর্মসংস্থান হবে এই খাতে। তাই তরুণদেরকে এখনই এই খাতে যুক্ত হওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে।” বিশ্ব অর্থনীতিতে ই-কমার্সের ব্যাপক প্রভাবের সাথে সাথে বাংলাদেশেও এর দ্রুতই প্রসার ঘটছে। বাংলাদেশের প্রায় সকল প্রধান প্রধান ব্র্যান্ডই এখন তাদের ই-কমার্স সেকশন চালুর চিন্তা করছে। ফলে চাকরি বাজারে ই-কমার্সের উপর দক্ষ তরুণদের বেশ চাহিদা তৈরি হচ্ছে। এছাড়াও অনেক তরুণরাই এখন ই-কমার্সের মাধ্যমে নিজেদের উদ্দ্যোগসমূহ গ্রহন ও এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। তবে এক্ষেত্রে অনেকেই শুধু ঝোকের বসে ই-কমার্স ব্যবসায় নেমে পড়ছেন, এতে যেমন তারা সফলতার মুখ না দেখে হতাশায় পরে যাচ্ছেন তেমনি যারা ইতিমধ্যে স্বচ্ছ উপায়ে এই সেক্টরে ব্যবসা করছেন তারাও অসুস্থ প্রতিযোগিতার মধ্যে পড়ছেন। তাই তরুণ উদ্যোক্তাদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে এবং তাদেরকে ব্যবসা সম্পর্কে সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদান ও ই-কমার্সের উপর দক্ষ জনবল তৈরির জন্য ই-ক্যাব তরুনদের জন্য গঠন করেছে ই-ক্যাব ইয়্যুথ ফোরাম। ফোরামের সদস্যপদ সম্পর্কিত প্রশ্নে ই-ক্যাব সভাপতি রাজিব আহমেদ বলেন, ই-ক্যাব ইয়্যুথ ফোরামে যেকোনো তরুণ যোগ দিতে পারবেন, এতে কোন মেম্বারশিপ ফি লাগবে না। এখানে ভবিষ্যৎ ই-কমার্স উদ্যোক্তা তৈরি, প্রশিক্ষণ ও তথ্যপ্রযুক্তি নানা বিষয় নিয়ে কাজ করা হবে। এছাড়াও ই-ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওয়াহেদ তমাল ইয়্যুথ ফোরাম থেকে এ বছর দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩০টি সেমিনার আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানান। ই-ক্যাব ইয়্যুথ ফোরামের সভাপতি আসিফ আহনাফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেসিআই বাংলাদেশের ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট সাখাওয়াত হোসেন মামুন এবং ই-কমার্স এ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) এর সভাপতি রাজিব আহমেদ এবং সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওয়াহেদ তমাল। এছাড়াও অনুষ্ঠানে ই-ক্যাবের কার্যকরী পরিষদের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রজাপতির মতো নির্বিঘ্নে উড়ে বেড়াতে চাই

প্রজাপতির মতো নির্বিঘ্নে উড়ে বেড়াতে চাই

স্বাধীনতার চার যুগ পার হতে চলল, আমরা এখন স্বাধীনভাবে কাজ করছি, চলছি, কথা বলছি। কিন্তু এই ‘স্বাধীনতা’টা তো শতভাগ হওয়া দরকার ছিল। আচ্ছা, মনে মনে একটু চিন্তা করুন—১৯৭১ সাল, লালমাটিয়ার এক গলি দিয়ে আপনি হেঁটে যাচ্ছেন খুব সকালের দিকে। একা একা। হঠাত্ গাড়ির আওয়াজ। পাক আর্মির গাড়ি পিছনে, কাছে এসেই দুজন নেমে এল। আপনার তো ভয়ে জান যায় অবস্থা। তারা অবশ্য আপনাকে পাশ কাটিয়ে চলে গেল, কিন্তু যে অনুভূতিটা হলো? আমার কেন জানি মনে হয়, ফুটপাথে একটা মেয়ে হেঁটে যাচ্ছে, সে যখন এ রকম কিছু যুবক দেখে, একটা ভীতি কাজ করে, কিছু না করুক, অন্তত একটা বাজে কথা তাকে শুনতেই হবে এই আশঙ্কা তো সে করে। নিউমার্কেটের ওভারব্রিজে যখন সে হেঁটে ওঠে, তাকে নিশ্চিত, ফ্রি ফ্রি জামার কালার নিয়ে সুন্দর কয়েকটা সমালোচনা পেতেই হবে! কী অদ্ভুত ব্যাপার চিন্তা করেছেন? দেশটা স্বাধীন, অথচ কিছু ক্ষেত্রে একটা পরাধীন পরাধীন ভাব থেকেই গেল? একটু জানার চেষ্টা করুন, ওই ছেলেদের কেউ আপনার আপনার ছোটভাই বা বন্ধু কিনা? অবস্থা এমন, একটা মেয়ে মোবাইলে রিচার্জ করার জন্য দোকানে নম্বর পর্যন্ত দিতে পারে না! নিরাপত্তাহীনতার কোনো জাতপাত বা লিঙ্গভেদ নেই আসলে। আর সেটা যদি হয় সামাজিক ব্যাধি, তাহলে সেই সমাজের সবাই তাতে আক্রান্ত হয়। প্রকৃত অর্থে কোনো সমাজে যখন সামাজিক নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি সামনে আসে, তখন সবাইকেই তার মুখোমুখি হতে হয়।

আশার আলো ‘লাইট অব হোপ’

আশার আলো ‘লাইট অব হোপ’

আজকাল সৌরবিদ্যুত্ তথা সোলার সিস্টেম ব্যবহার করে গাড়ি থেকে শুরু করে রকেট পর্যন্ত উড়ছে। আমাদের বাংলাদেশেও প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেখানে বিদ্যুত্ পৌঁছায়নি—এমন লক্ষাধিক বাড়িতে পৌঁছে গেছে সৌরবিদ্যুত্। বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বছরখানেক আগেও বাসাবাড়িতে ব্যবহার পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ছিল। একদল তরুণ এর ব্যবহারে আনে ভিন্নতা। সৌরবিদ্যুতের সাহায্যে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম করে দিচ্ছেন তারা। নিজেদের তৈরি ‘লাইট অব হোপ’ সংস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশের যেসব এলাকায় এখনো বিদ্যুত্ পৌঁছায়নি, সেসব এলাকার স্কুলগুলোতেই মূলত তারা কাজ করে যাচ্ছেন। ওইসব স্কুলে তারা সৌরবিদ্যুতের ব্যবস্থা করছেন, প্রোজেক্টরের মাধ্যমে পড়াশোনার ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন; এমনকি বানিয়ে দিচ্ছেন লাইব্রেরিও। গল্পের শুরু ২০১২ সালে নোয়াখালীর চর অঞ্চলের বিদ্যুত্হীন এক গ্রামে। সেখানকার আম্বিয়া খাতুন তার বাড়িতে সৌরবিদ্যুতের সাহায্যে আশপাশের প্রতিবেশীদের মোবাইল ফোনটি চার্জ করে দেন ৫ টাকার বিনিময়ে। অর্থ-উপার্জনের পাশাপাশি সৌরবিদ্যুতের আলোর কল্যাণে তার বাচ্চারা রাতের বেলায় বেশি সময় ধরে পড়তেও পারে। আম্বিয়া খাতুনের সাথে পরিচয়ের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠাতা ওয়ালিউল্লাহ ভূঁইয়ার মাথায় প্রথম আসে সৌরবিদ্যুত্চালিত স্কুলের কথা। পাঁচ প্রতিষ্ঠাতাই উচ্চ শিক্ষার্থে যখন বাইরে পড়াশোনা করছেন সেই সময়েই এই তরুণ দলের জন্য আশীর্বাদ হয়ে আসে ‘ডেল এডুকেশন চ্যালেঞ্জ ২০১৩’। তারা স্কাইপিতে এটা নিয়ে আলোচনা শুরু করলেন এবং পরবর্তী সময়ে তাদের প্রপোজাল প্রতিযোগিতায় পাঠালেন। সেখানে মোট ৮১৬টি আইডিয়ার মধ্যে থেকে তাদেরটি উঠে এল সেরা তিনে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অস্টিন শহরে অনুষ্ঠিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে তাদের হাতে সম্মানী হিসেবে তুলে দেওয়া হয় ২,৫০০ ডলারের চেক। এরপর ইন্টারনেটের ক্রাউডফান্ডিং দ্বারা জোগাড় হয় আরও ৪,৫০০ ডলার। সবমিলিয়ে ৬০০০ ডলার দিয়ে তারা যাত্রা শুরু করেন। পাঁচ প্রকৌশলী বন্ধু মিলে প্রায় তিন মাস খেটে তৈরি করে ফেলেন এমন এক পদ্ধতি, যাতে মাত্র ৬০ ওয়াট বিদ্যুতেই চলবে একটি ল্যাপটপ, একটি মিনি প্রোজেক্টর, সাউন্ড বক্স, এলইডি বাতি, মোবাইল চার্জ করার ব্যবস্থা। এ সবকিছুই চলবে সৌরবিদ্যুতে। প্রতিদিন নেওয়া যাবে চার ঘণ্টা ক্লাস। এমনকি বর্ষা বা প্রচণ্ড কুয়াশাতে সূর্যের আলো না থাকলেও অতিরিক্ত একদিন ক্লাস নেওয়া যাবে। গ্রামের স্কুলের শিক্ষকদের ল্যাপটপ ও ই-কনটেন্ট বিষয়ক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হয়। আর ২০১৪ সালের মে মাসে তাদের প্রথম স্কুল উদ্বোধন হয় কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়াতে। এই মুহূর্তে তাদের দুটি প্রজেক্ট চালু রয়েছে। প্রথমটি তাদের এই ‘ডিজিটাল স্কুল’ এবং অপরটি ‘পড়ুয়া’।

বাবা-মায়ের যত্নেও এগিয়ে মেয়েরা

বাবা-মায়ের যত্নেও এগিয়ে মেয়েরা

বুড়ো বাবা-মায়ের যত্ন কে বেশি করেন? ছেলে নাকি মেয়ে? এ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। উভয় পক্ষই নিজেদেরকে এগিয়ে রাখতে চাইবেন। তর্ক বাদ দিলে, জিতটা মেয়েদের পক্ষেই যাচ্ছে। কারণ, নতুন এক গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে ছেলেরা নয়; মেয়েরা বৃদ্ধ বাবা-মাকে বেশি সময় দিয়ে থাকেন। গবেষণায় পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পরিবারের সন্তান ছেলে নাকি মেয়ে তার উপরে অনেকটাই নির্ভর করে কারা তাদের বাবা-মাকে বৃদ্ধ বয়সে দেখাশোনা করবে। মেয়ে সন্তানরাও বয়স্ক পিতামাতার সাথে সময় কাটানো বাড়িয়ে দেয়। কারণ ছেলেরা পিতামাতাকে সময় দেবে না, ফলে দায়িত্বটা মেয়েদের ওপর চলে যাবে। বলা হচ্ছে, দেখাশোনা ও যত্ন নেয়ার অধিকাংশ দায়িত্ব নারীদের উপর চাপিয়ে দিয়ে পুরুষরা একইসাথে শারীরিক ও মানসিক চাপ থেকেও মুক্ত থাকে। এভাবে তারা কিছু অতিরিক্ত খরচের হাত থেকেও রক্ষা পায়। এই গবেষণার অন্যতম একজন গবেষক, প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ডক্টরেট প্রার্থী অ্যাঞ্জেলিনা গ্রিগোরিভা জানিয়েছেন, মেয়েরা প্রতি মাসে ১২.৩ ঘণ্টা সময় তাদের বাবা-মায়ের পিছনে ব্যয় করে। অন্যদিকে, ছেলেরা সময় দেয় মাত্র ৫.৬ ঘণ্টার মতো। তিনি বলেন, অন্যভাবে বলা যায়, মেয়েরা সবমিলিয়ে ছেলেদের চেয়ে দ্বিগুণ সময় তাদের বৃদ্ধ বাবা-মায়ের পিছনে ব্যয় করে। প্রতিমাসে অন্তত ছেলেদের চেয়ে সাত ঘণ্টা বেশি সময় তাদের দেখাশোনার কাজে দিয়ে থাকে। একই কথা বলছে আরো একদল গবেষক। মিসিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য ও অবসর বিদ্যা বিভাগ কর্তৃক থেকে ৫০ বছরের অধিক বয়সী ২৬,০০০ মানুষের উপর গত দুই বছরের গবেষণায় যে তথ্য পাওয়া গেছে তাতে বলা হয়েছে, লিঙ্গ বিষয়টিই সবকিছু। সেখানে সন্তানের ক্ষেত্রে পিতামাতার পক্ষ থেকে আদর-যত্নেও এক ধরনের বিভক্তি ও বৈষম্য তৈরি হয়। আমেরিকার সমাজতাত্ত্বিক এসোসিয়েশন কর্তৃক প্রকাশিত হওয়া অনুসন্ধানে জানানো হয়েছে, চিরাচরিত লৈঙ্গিক ব্যাপারগুলোই এখনো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বৃদ্ধ পিতামাতার উপর সন্তানরা কতটা খেয়াল রাখে সে বিষয়টি নির্ভর করে মূলত তাদের সন্তান ও চাকরির উপর। পুরুষরা বৃদ্ধ পিতামাতাকে দেখাশোনা করার ক্ষেত্রে খেয়াল রাখে যে তাদের বোন কিংবা পিতামাতার সঙ্গী সেই দায়িত্ব পালন করতে পারছে কিনা।

ওয়ার্ল্ড মিস ইউনিভার্সিটিতে বাংলাদেশি অবনী

ওয়ার্ল্ড মিস ইউনিভার্সিটিতে বাংলাদেশি অবনী

‘ওয়ার্ল্ড মিস ইউনিভার্সিটি-২০১৬’ প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন বাংলাদেশের আহসানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এ্যান্ড টেকনোলজির শিক্ষার্থী মুঞ্জারিন মাহবুব অবনী। চীনের বেজিং শহরে সারা বিশ্বের ৭০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭০ জন প্রতিযোগী এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন। সেখানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন অবনী। ১৯৮৬ সাল থেকে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে। অবনী আহসানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এ্যান্ড টেকনোলজির চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। ২০১৪ সালে র্যাম্পের মাধ্যমে ক্যারিয়ারে যাত্রা শুরু করেন। এরপর বিজ্ঞাপনচিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমেই মিডিয়াতে তার পথচলা শুরু। শুরুতেই দেশের শীর্ষ মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোনের টেলিভিশন বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করে সংশ্লিষ্টদের নজরে আসেন। গ্রামীণফোনের ১ পয়সা প্রতিসেকেন্ডের বিজ্ঞাপনটির ছবির বিলবোর্ড দেশজুড়ে শোভা পাচ্ছে। ইতিমধ্যে এই বিজ্ঞাপনচিত্রের জন্য অবনী পেয়েছেন ‘সাঁকো টেলিফিল্ম এ্যাওয়ার্ড’। এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমি আমার সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করব। প্রতিযোগিতায় শুধু সৌন্দর্য নয় বরং তাত্ক্ষণিক পারফমেন্সের বিষয়টিও থাকবে। আরো থাকবে আইকিউ পরীক্ষা। সব মিলে জমজমাট একটি আয়োজন। এখানে নিজেকে শারীরিক এবং মানসিকভাবে ফিট রাখাটাই জরুরি। এ বিষয়ে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী অবনী। তিনি আরো বলেন, আমি প্রতিযোগিতায় সৌন্দর্যের পাশাপাশি আমাদের দেশে লোক নৃত্য উপস্থাপন করবো। ছোটবেলা থেকে আমি নাচতেই পছন্দ করি। দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনেক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছি। তবে এবারে বড় একটা কম্পিটিশনে অংশ নিচ্ছি এটা আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া। অবনী বলেন, এর আগে উপমহাদেশ থেকে শুধু নেপালের আয়ুশা শ্রেষ্ঠা চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন। এবার বাংলাদেশ থেকে আমি প্রতিনিধিত্ব করছি। আমি আমার সর্বোচ্চটা চেষ্টা করবো ভালো করার। বাকিটা আল্লাহ ভরসা। আমি দেশবাসীর কাছে দোয়া চাচ্ছি যাতে আমি ভালো করতে পারি, দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনতে পারি। বর্তমানে তরুণ প্রজন্মের এ উঠতি মডেল আন্তর্জাতিক এই প্রতিযোগিতায় সাফল্য ও দেশের জন্য যাতে সুনাম বয়ে আনতে পারেন সেজন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন অবনী।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন মেধাবীর জয়গান

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন মেধাবীর জয়গান

প্রিতম, আশফাক, আশিক— তারা তিনজনই বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এই তিনজন গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ঘুরে আসে ভারতের উত্তর প্রদেশের রাজধানী লক্ষণৌতে অবস্থিত বাবাসাহেব ভিমরাও আমবেদকার বিশ্ববিদ্যালয়। আসলে ব্যাপারটি ঘুরে আসা নয়। অংশগ্রহণ করতে গিয়েছিল ‘সাউথ এশিয়ান ইউনিভার্সিটিস ইয়ুথ ফেস্টিভ্যাল (সাফফেস্ট)-২০১৬’-তে। সার্কভুক্ত দেশগুলোর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে এবার নবম বারের মতো অনুষ্ঠিত হলো এই ফেস্টিভ্যালটি। যার মূল উদ্দেশ্য,সার্কভুক্ত দেশগুলোর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি বন্ধন তৈরি করা। আর নিজেদের সংস্কৃতি বিনিময় করা। কথা বলছিলাম এই দলের একজন সদস্য প্রিতমের সাথে। পুরো নাম প্রিতম চন্দ্র দাস। ফেস্টিভ্যালটিতে কাজ করেছেন লাইট ভোকাল, গ্রুপ সং, ডিবেট ও ইলোকিউশন নিয়ে। সাফফেস্ট নিয়ে তিনি বলেন, জীবনে প্রথমবারের মতো দেশের বাইরে যাওয়া।বিষয়টি নিয়ে আমার মধ্যে অনেক আগ্রহ কাজ করছে।

সাধারণ এক তরুণের অসাধারণ হয়ে উঠার গল্প

সাধারণ এক তরুণের অসাধারণ হয়ে উঠার গল্প

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া ইনোভেশন এক্সট্রিম সম্মেলনে বিভিন্ন বিষয়ে একাধিক সেশনের আয়োজন করা হয়েছিল। এর মধ্যে একটি সেশন ছিল ‘ফায়ারসাইড চ্যাট উইথ আব্দুল মতিন শেখ মাহিন’ শিরোনামে যেখানে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন ব্যাকবোন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন শেখ মাহিন। ইনোভেশন এক্সট্রিমে অংশগ্রহণকারী উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী এবং অন্যান্য অতিথিদের সামনে নিজের জীবনে গল্প তুলে ধরেন তিনি। তার এই আলোচনায় উঠে এসেছে কীভাবে গ্রামের একজন সাধারণ ছেলে একের পর এক বাধা অতিক্রম করে আজকের এই অবস্থানে এসে পৌঁছেছেন। তার আলোচনা থেকে প্রাপ্ত সারসংক্ষেপ আপনাদের পাঠকদের সামনে তুলে ধরা হলো।

প্রডিজি’র ৫০০ জন তরুণকে নিয়ে জাতীয় ইয়ুথ সামিট

প্রডিজি’র ৫০০ জন তরুণকে নিয়ে জাতীয় ইয়ুথ সামিট

বাংলা একাডেমিতে গত ১২ মার্চ সিভিল সোসাইটি সংগঠন ডেমোক্রেসি ওয়াচ, সুশীলন, দ্য হাঙ্গার প্রজেক্ট, উত্তরণ ও ওয়েভ ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যৌথভাবে জাতীয় ইয়ুথ সামিটের আয়োজন করেছে ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশ। ব্রিটিশ কাউন্সিলের তরুণকেন্দ্রিক প্রকল্প প্রডিজি (প্রোমোটিং ডেমোক্রেটিক ইনক্লুশন অ্যান্ড গভর্নেন্স থ্রু ইয়ুথ)-এর অধীনে সামিটটি আয়োজন করেছে। তরুণকেন্দ্রিক ক্লাব কার্যক্রম, মঞ্চ অভিনয়, স্থানীয় সরকারের সঙ্গে সংযুক্তি, কমিউনিটি রেডিও কর্মসূচি ও প্রকাশ্য সংলাপসহ নানা স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমের মাধ্যমে বৃহত্তর সম্প্রদায়ের মানুষের সরকারি তথ্যে, সকল সুযোগ নিশ্চিত করতে বৃহত্তর সম্প্রদায়ের সঙ্গে তরুণদের যুক্ত করার ক্ষেত্রে প্রডিজি ৫৪০ জন তরুণের জ্ঞান ও দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করছে। সরকারি সব তথ্য ও সেবায় মানুষের সুযোগ বৃদ্ধিতে তরুণরা যেন তাদের অভিনব ও সৃষ্টিশীল কাজগুলো প্রদর্শন করতে পারে এ প্ল্যাটফর্ম করে দিতে প্রডিজির এ জাতীয় সামিটে ঢাকায় প্রডিজি নেটওয়ার্কের ৫০০ জন তরুণকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

প্রযুক্তি বাস্তবতায় আইটি শিক্ষা

প্রযুক্তি বাস্তবতায় আইটি শিক্ষা

তথ্যপ্রযুক্তি বা আইটি বিষয়ে পড়ার পরিকল্পনা অনেকেরই। এইচএসসি পাশ করা শিক্ষার্থীদের জন্য অপেক্ষা করছে নতুন স্বপ্ন, নতুন সম্ভাবনা। সময়টা এখন প্রযুক্তির। প্রযুক্তি এখন জীবনের প্রধান অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে। বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে প্রযুক্তির ওপর ভর করে। প্রযুক্তি থেকে দূরে থাকা মানেই পিছিয়ে পড়া। প্রযুক্তির বিশ্ববাস্তবতায় তাই অনেকেই আইটি শিক্ষায় উত্সাহিত হচ্ছে। যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে নিত্যনতুন বিষয় যোগ হচ্ছে তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা ব্যবস্থায়। শিক্ষার্থীদের সামনে পেশাজীবনে যোগ হচ্ছে নতুন নতুন সম্ভাবনা। তরুণরা খুঁজে পাচ্ছেন নতুন দিকনির্দেশনা। প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তি এখন সবচেয়ে যুগোপযোগি। প্রতিটি ভালো ছাত্রের স্বপ্ন হচ্ছে বিদেশে বিশেষ করে যুক্তরাজ্য, অষ্ট্রেলিয়া, কানাডা, জার্মানীসহ ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি অর্জন। তবে স্বপ্ন পূরনের প্রধান অন্তরায় হচ্ছে বিপুল খরচ যা আমাদের দেশের তুলনায় প্রায় দশগুন। তাই ইচ্ছে থাকা স্বত্ত্বেও সকলের পক্ষে বিদেশে গিয়ে পড়াশোনা সম্ভব হয় না। একদিকে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি অর্জনের প্রবল আকাঙ্খা অন্যদিকে আর্থিক অস্বচ্ছলতা এই বাস্তবতাকে উপলব্ধি করে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপদানের লক্ষ্যে একটি সহজ সুযোগ সৃষ্টি করেছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি (www.daffodil.ac)।

নারীর জীবনের ১২ বছর কাটে রান্নাঘরে

নারীর জীবনের ১২ বছর কাটে রান্নাঘরে

বাংলাদেশের একজন নারী জীবনের ১২ বছর রান্নাঘরে কাটান। এ কারণে শারীরিক ও মানসিকসহ নানা সমস্যার মুখে পড়ছেন তারা। রান্নাবান্নাসহ এরকম কাজে একজন নারীকে প্রতিদিন পুরুষের তুলনায় পাঁচগুণ বেশি সময় দিতে হচ্ছে। আর এই সেবামূলক কাজের মূল্যায়ন, স্বীকৃতি ও বণ্টন না থাকায় নারীর সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন হচ্ছে না। অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর জেন্ডার অ্যান্ড সোশ্যাল ট্রান্সফরমেশন (সিজিএসটি) প্রজেক্টের ‘স্ট্রেন্থেনিং উইমেনস কালেকটিভস’ প্রকল্পের আওতায় লালমনিরহাট ও গাইবান্ধায় তৃণমূল নারী এবং পুরুষের বিভিন্ন কাজে সময়ের ব্যবহার নিয়ে গবেষণায় (দ্বিতীয় ধাপে) এমন তথ্য উঠে এসেছে। রবিবার ঢাকার স্পেক্ট্রা কনভেনশন সেন্টারে তিন ধাপে হওয়া এই গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়। যেখানে নারীর অমূল্যায়িত কাজের মূল্যায়ন, স্বীকৃতি ও বণ্টনে তিন বছরের একটি প্রজেক্টের বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে একজন নারী সারাদিন যেখানে পৌনে সাত ঘণ্টা সেবামূলক কাজে ব্যয় করেন, সেখানে একজন পুরুষ ব্যয় করেন এক ঘণ্টা ২০ মিনিট। ইউরোপিয়ান কমিশনের সহায়তায় ২০১৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত গাইবান্ধা এবং লালমনিরহাট জেলায় গবেষণাটি তিন ধাপে এই গবেষণা পরিচালিত হয়। দুই জেলার প্রাপ্তবয়স্ক বিবাহিত ২২৪ জন নারী এবং ১২১ জন পুরুষের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতেই তৈরি করা হয় প্রতিবেদনটি। রান্না করা, ঘর পরিষ্কার, কাপড় ধোয়া, পরিবারের সদস্যদের দেখাশোনা করাসহ যে কাজগুলো নারীরা পরিবারের জন্য করেন তাকে অমূল্যায়িত সেবামূলক কাজ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রোগ্রাম ম্যানেজার লরেঞ্জা গামাকোর্টা বলেন, ‘দেশের উন্নয়নে বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত জরুরি। সেখানে নারীরা যে কাজগুলো করেন তার মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি থাকা প্রয়োজন’। ‘স্ট্রেন্থেনিং উইমেনস কালেকটিভস’ প্রকল্পটি বাংলাদেশ, ভারত ও নেপাল এই তিনটি দেশে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এই প্রকল্পে ১৭৮টি দলের ৯২৮৮ জন নারীর সাথে ২০১৩ সালের মার্চ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০১৬ পর্যন্ত বিভিন্ন তথ্য নেয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের সামগ্রিক লক্ষ্য হল নারীদের সুষম কাজ নিশ্চিত করার মাধ্যমে তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা। এছাড়া নারীর অমূল্যায়িত সেবামূলক কাজের স্বীকৃতি ও পুনর্বণ্টন এবং নারীদেরকে টেকসই কৃষি উৎপাদন ও ভ্যালু চেইনের সাথে সম্পৃক্ত করা।

কর্মসংস্থানে এগিয়ে যেতে

কর্মসংস্থানে এগিয়ে যেতে

তরুণরা কখনো হতাশা নামক গ্লানি নিয়ে জন্মগ্রহণ করে না। যারা হতাশ তাদের তরুণ বলে আখ্যায়িত করা যাবে না। তরুণ মানে যেকোনো বাঁধ ভেঙে এগিয়ে যাওয়া। তবে তার সুযোগ থাকাটা বাঞ্ছনীয়। তরুণরা একটা দেশের অর্থনীতিসহ সকল সেক্টরকে এগিয়ে নিতে সক্ষম। আর এজন্য প্রয়োজন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি। এক্ষেত্রে এ প্রজন্মের ব্যাংক সেবা গ্রহিতাদের সময় বাঁচাতে কর্মসংস্থান ব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিং এবং পেমেন্ট সেবা ব্যবহারের লক্ষ্যে ৪ জানুয়ারি শিওরক্যাশের সাথে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। এ সমঝোতা স্মারকের আওতায় কর্মসংস্থান ব্যাংক শিওরক্যাশের মোবাইল ফোন ভিত্তিক অটোমেটেড পেমেন্ট প্লাটফর্ম ব্যবহার করে তাদের দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ২ লক্ষ ৫০ হাজার গ্রাহকের জন্য ঋণ বিতরণ ও আদায় কর্মসূচি ও অন্যান্য সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করবে। ব্যাংকের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এই স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে কর্মসংস্থান ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মো. ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ, মহাব্যবস্থাপক প্রশাসন জনাব কফিল উদ্দিন আহাম্মদ চৌধুরী, মহাব্যবস্থাপক পরিচালন জনাব মো. শফিকুল মাওলা, মহাব্যবস্থাপক হিসাব ও নিরীক্ষা জনাব গোকুল চন্দ্র রায়, এবং শিওরক্যাশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. শাহাদাত খান, প্রধান ব্যবসা কর্মকর্তা মো. আবু তালেব-সহ উভয় প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। শিওরক্যাশ একটি পূর্ণাঙ্গ মোবাইল ব্যাংকিং এবং পেমেন্ট সেবা, যা বর্তমানে ৬টি ব্যাংকের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে কাজ করছে। এই সেবার মাধ্যমে গ্রাহকরা সারাদেশে টাকা পাঠানো, রেমিটেন্সের টাকা ওঠানো, মোবাইল রিচার্জ, বিল দেওয়া এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেতন দেওয়ার সুযোগ পাবেন, এবং ৩৫ হাজার-এর অধিক অ্যাজেন্টের সহায়তায় মোবাইল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে বা টাকা জমা করতে বা তুলতে পারবেন।

কমনওয়েলথে নেতৃত্বে আমাদের রকিবুল

কমনওয়েলথে নেতৃত্বে আমাদের রকিবুল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ বিষয়ের গর্বিত ছাত্র রকিবুল হাসান মহামান্য রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের সম্মানে প্রবর্তিত ‘কুইন্স ইয়ং লিডার’ প্রোগ্রামে মনোনীত হয়েছেন। ৮ ডিসেম্বর মঙ্গলবার ‘দ্য কুইন্স ইয়ং লিডার প্রোগ্রাম’ আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেয়। ‘Highly Commended Runner-Up’-এর বিশেষ বিভাগে এই বিরল সম্মাননা অর্জন করেন। এর মধ্যদিয়ে তিনি বিশ্বের কমনওয়েলথভুক্ত পঞ্চাশেরও অধিক রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেলেন। এই বছরব্যাপী প্রোগ্রামের মধ্য দিয়ে রকিব যুক্তরাজ্যর বিখ্যাত ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘লিডিং চেঞ্জ’ নামক স্বতন্ত্র অনলাইন লিডারশিপ কোর্সে অংশগ্রহণ করারও সুযোগ পাবেন। রকিব এখন মহামান্য রানির পক্ষে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করবেন। নারায়ণগঞ্জে বেড়ে ওঠা রকিব ছাত্রজীবনের শুরুর দিকে নানামুখী স্বেচ্ছাসেবক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন। রকিব বিশ্বাস করেন, রাষ্ট্র অথবা সমাজের প্রকৃত মুক্তি যুবসমাজের গুণগত বিকাশের মধ্য দিয়ে অর্জিত হতে পারে। কারণ, দ্রুতই এই যুবকগণ প্রবীণদেরকে কর্মস্থল প্রতিস্থাপন করবে। ইতোমধ্যে রকিব সামাজিক বিষয়ে ১৫টির বেশি গবেষণা প্রবন্ধ লিখেছেন। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি, উন্নয়ন ও শান্তির ওপর তার প্রথম বইও প্রকাশের পথে।