সোমবার, ২০ নভেম্বর ২০১৭

রবিবার, ১১ জুন ২০১৭

রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকে মূলধন ঘাটতি : ৮ বছরে দেওয়া হয়েছে সাড়ে ১৪ হাজার কোটি টাকা

এবিসিরিপোর্ট ডেস্ক

রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি পূরণে আসছে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। মূলধন ঘাটতি পূরণের জন্য গত আট অর্থবছরে সবমিলিয়ে ১৪ হাজার ৬৬৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে গত চার বছরেই দেওয়া হয়েছে ১১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা। রাষ্ট্রায়ত্ব সোনালী ও বেসিক ব্যাংকে দেওয়া হয়েছে বড় অংকের বরাদ্দ। বাজেট ডকুমেন্ট এবং অর্থমন্ত্রণালয় সূত্রে জানাগেছে, ২০০৯-২০১০ অর্থবছরে রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকগুলোকে পুনঃমূলধন খাতে ১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিলো। ২০১৪-১৫ অর্থবছর দেওয়া হয়েছিলো ২ হাজার ৬১৭ কোটি টাকা। ২০১৫-১৬ অর্থবছর ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা, ২০১৬-১৭ অর্থবছর ২ হাজার কোটি টাকা, এবং আগামী ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২ হাজার কোটি টাকা।

সরকারি ব্যাংকগুলোর ঋণ খেলাপি বৃদ্ধি পাওয়ায় অর্থনীতিবিদরা এই পুনঃমূলধনীকরণকে অনৈতিক মনে করছেন। খেলাপি ঋণের কারণে দুর্দশাগ্রস্ত এই ব্যাংকগুলোকে টিকিয়ে রাখতে জনগনের করের টাকা থেকে এই ভর্তূকী দেওয়ার সমালোচনা হচ্ছে বিভিন্ন মহল থেকে। অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বিগত চার অর্থবছরে শুধু সোনালী ও বেসিক ব্যাংককে পুনঃমূলধন খাত থেকে দেওয়া হয়েছে ৬ হাজার ৯৫ কোটি টাকা। ২০১৩-১৪ ও ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সোনালী ব্যাংক এ খাত থেকে পেয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ৯৯৫ কোটি টাকা এবং ৭১০ কোটি টাকা। বেসিক ব্যাংককে ২০১৪-১৫ এবং ২০১৫-১৬ অর্থবছরে পুনঃমূলধন খাতে দেওয়া হয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ১৯০ কোটি এবং ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা।

সূত্র জানায়, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংককে দেওয়া হয় ১৪০ কোটি ৮ লাখ টাকা। আর রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংককে যোগান দেওয়া হয় ৫৫ কোটি টাকা। একইভাবে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বেসিক ব্যাংক পায় ১ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। সোনালী ব্যাংককে দেওয়া হয় ৭১০ কোটি টাকা, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংককে ২৫০ কোটি টাকা এবং রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংককে যোগান দেওয়া হয় ৭৫ কোটি টাকা। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে সোনালী ব্যাংক পায় ১ হাজার ৯৯৫ কোটি টাকা, জনতা ব্যাংক ৮১৪ কোটি, অগ্রণী ব্যাংক ১ হাজার ৮১ কোটি, রূপালী ব্যাংক ২১০ কোটি টাকা, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক ১৭৫ কোটি টাকা এবং রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংককে মূলধন বাবদ যোগান দেওয়া হয় ৮০ কোটি টাকা।