শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭

শনিবার, ২২ জুলাই ২০১৭

মেহেরপুরের গাংনীতে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে অভিযান, নারীসহ গ্রেফতার ৩

এবিসিরিপোর্ট ডেস্ক

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বামুন্দী আখ সেন্টারপাড়ায় আজ শনিবার জঙ্গি সন্দেহে ঘেরাও করে রাখা বাড়ি থেকে দুই নারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ মাইকিং করলে দুই শিশু কোলে করে ওই দুই নারী বেরিয়ে আসেন। সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটের সময় তাদের বাড়ির সামনে থেকে গ্রেফতার করে একটি সাদা মাইক্রোবাসে তুলে নেয়া হয়। অন্যদিকে সকাল ১১টার দিকে বাড়ির মালিকের ছেলে কলেজ ছাত্র হাসিবুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃত দুই নারী হলেন- গাংনী উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের আব্বাস আলীর স্ত্রী রজনী খাতুন (৩০) ও তার মা পার্শ্ববর্তী কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুরের বরকত আলীর স্ত্রী মরিয়াম খাতুন (৪৫)। বেলা ১২টার সময় পুলিশ সুপার আনিছুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করে ব্যাপক তল্লাশি চালান। পরে অভিযান সমাপ্তি ঘোষণা করেন। তবে কোন কিছু উদ্ধার হয়েছে কিনা পুলিশ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানায়নি।

স্থানীয়রা জানান, বাড়িটির মালিক মেসকাত আলী প্রায় ১৪ বছর যাবৎ সৌদি আরবে রয়েছেন। তার স্ত্রী গেনীয়ারা মারা গেছেন প্রায় ২ বছর আগে। বর্তমানে তার ছেলে কলেজ ছাত্র হাসিবুল ইসলাম বাড়িটির দেখাশোনা করেন। তিনি ডিগ্রী প্রথম বর্ষের ছাত্র। 

পাশের বাড়ির খাতুন জানান, ১৫ দিন আগে ওই বাড়িটিতে এ দুজন ভাড়াটিয়া এসেছেন।  পাশের বাড়ির ভাড়াটিয়া শিলা খাতুন জানান, এই পরিবার মা-মেয়ে পরিচয় দিয়ে এখানে থাকেন। তাদের দুজনেরই দুটি শিশু রয়েছে। শ্বশুর বিদেশে থাকেন এবং জামাইয়ের দোকান রয়েছে বলে জানেন তারা।

 বাড়ির নিচ তলার ভাড়াটিয়া শ্যামলী খাতুন জানান, তারা ১৫ দিন হলো এ বাড়িটিতে ভাড়াটিয়া হিসেবে এসেছেন। তাদের স্বামী দুজন মাঝে মধ্যে হাট বাজার করে দিয়ে যেতো। তবে তারা কখনো বাইরে বের হতো না। আমরা এ বাড়িটিতে যারা আছি তারা সকলেই টিউবওয়েলের পানি পান করলেও এ দুজন ছাদের উপরে ট্যাপে রাখা পানি পান করতো। তিনি আরও জানান, মাঝে মধ্যে বোরখা পরে নারীরা আসতো তাদের কাছে। সেসব দলে ৪ জন কখনো ৫ জন করে থাকতো। 

মেহেরপুর পুলিশ সুপার ( এসপি)  আনিছুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম সকাল ১০টা ৩৭ মিনিট থেকে বাড়িটি ঘিরে রেখেছে। আশে পাশের লোকজনকে মাইকিং করে সরিয়ে দেওয়া হয়। সাংবাদিকদেরও নিরাপদ দূরত্বে অবস্থানের জন্য সতর্ক করে দেওয়া হয় পুলিশের পক্ষ থেকে। বেলা ১২ টার সময় অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করলেও বর্তমানে সেখানে পুলিশি পাহারা রয়েছে। তবে এলাকাবাসীর মধ্যে নতুন করে জঙ্গি আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। 

অভিযান শেষে পুলিশ সুপার আনিছুর রহমান বলেছেন, কয়েকদিন আগে থেকে ওই বাড়িটিতে সন্দেহভাজন নারীদের ঘোরা ফেরা দেখে পুলিশের কাছে সন্দেহ হয়। আজ শনিবার (২২ জুলাই) সকাল থেকেই পুলিশ বাড়িটির আশেপাশে অবস্থান নেয়। পরে সকাল ১০টা ৩৭ মিনিট থেকে অভিযান শুরু হয়। গ্রেফতারকৃত বাড়ির মালিকের ছেলে হাসিবুল ইসলামসহ দুই নারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। তারা আদৌ জঙ্গি কিনা খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।