সোমবার, ১৮ জুন ২০১৮

রবিবার, ১১ মার্চ ২০১৮

খেলাধুলার মাধ্যমে জঙ্গিবাদ মোকাবেলা করব: প্রধানমন্ত্রী

এবিসিরিপোর্ট ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, খেলাধুলার মধ্য দিয়ে আমরা মাদক-সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মোকাবেলা করবো, যুব সমাজকে রক্ষা করব। খেলাধুলা একটা মানুষের জীবনকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পারে। সুস্থ-সবল দেহ-মন এবং দেশ ও জাতির প্রতি ভালবাসা তৈরিতে খেলাধুলা একান্তভাবে প্রয়োজন।

শনিবার রাতে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ যুব গেমস-২০১৮’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। দেশে প্রথমবারের মতো আয়োজিত যুব গেমস প্রত্যন্ত অঞ্চলের সুপ্ত প্রতিভাকে উদ্ভাসিত এবং খেলাধুলার প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহ বাড়াবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

‘মুখে হাসি বুকে বল, তেজে ভরা মন, মানুষ হইতে হবে মানুষ যখন’ বঙ্গবন্ধুর বক্তৃতার এই লাইন উদ্ধৃত করে তার কন্যা শেখ হাসিনা যুব সমাজের উদ্দেশে বলেন, ‘সব সময় নিজের আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে। বুকে সাহস রাখতে হবে।’

তিনি বলেন, প্রতিযোগিতায় আমরা টিকে থাকতে চাই। এগিয়ে যেতে চাই। বাংলাদেশও পারে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হতে। প্রথমবারের মতো যুব গেমসের আয়োজন করায় বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

জীবন গঠনে খেলাধুলার গুরুত্বের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, খেলাধুলা শৃঙ্খলাবোধ ও অধ্যবসায় শেখায়, দায়িত্বজ্ঞান সম্পন্ন ও কর্তব্যপরায়ণতা করে এবং সহনশীলতার শিক্ষা দেয়। লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সব সময় বিশ্বাস করি শুধু লেখাপড়া না, লেখাপড়ার সঙ্গে সঙ্গে খেলাধুলা আর সাংস্কৃতিক চর্চা; এটা একান্তভাবে অপরিহার্য।’ খেলাধুলার মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব গড়ে তোলার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রতিবছর দেশব্যাপী ছাত্রদের জন্য ‘বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট’ ও ছাত্রীদের জন্য ‘বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট’ আয়োজনের কথাও মনে করিয়ে দেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘এতে ধীরে ধীরে ভালো খেলোয়াড় তৈরি হচ্ছে; যা জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতাকে আরো উন্নত করবে। আমার বিশ্বাস, এসব প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সৃষ্টি হবে কর্মঠ ও দৃঢ় মনোবল সম্পন্ন যুব সমাজ, যারা আগামী দিনের রাষ্ট্র পরিচালনায় নেতৃত্ব দেবে।’

ক্রিকেটের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বিজয়ী জাতি, বিশ্বে মাথা নিচু করে চলবো না, মাথা উঁচু করে চলতে চাই না। খেলাধুলায়ও বিশ্বকে দেখিয়ে দিতে চাই প্রতিযোগিতায় কোনো অংশে কম নই, আমরাও পারি।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের ছেলে-মেয়েরা খেলাধুলার বিভিন্ন জায়গায় ভালো করছে। প্রতিবন্ধীরাও কিন্তু পিছিয়ে নেই। তারাও বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশে-বিদেশে সুনাম বয়ে আনছে। বিদেশে ক্রীড়াবিদরা বিভিন্ন অঙ্গণে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। ইতিমধ্যে ফুটবল ও ক্রিকেটে বেশ এগিয়েছে বাংলাদেশ। ক্রিকেটে বাংলাদেশ কোর্য়ার্টার ফাইনালে খেলেছে, আমরা বিশ্বাস করি একদিন বিশ্বকাপ জয় করতে পারবো।

পরে প্রধানমন্ত্রী একটি সাদা বলে হাত রেখে এই গেমসের উদ্বোধন করেন। এ প্রতিযোগিতা আগামী ১৬ মার্চ পর্যন্ত চলবে। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন যুব গেমসের সাংগঠনিক কমিটির চেয়ারম্যান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এবং বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সেনাপ্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক।